জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পালানোর পর থেকে নিরাপত্তাসঙ্কট মোকাবেলা করতে হচ্ছে দেশকে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, জনসমাবেশ ও বিশিষ্ট ব্যক্তির ওপর হামলার নিশানা করা হচ্ছে। ওই সব অন্তর্ঘাতকে আবারো জঙ্গিবাদী উগ্র কর্মকাণ্ড হিসেবে প্রদর্শনের সুদূর প্রসারী ষড়যন্ত্র নিয়ে কাজ করছে একটি গোষ্ঠী। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ ধরনের একটি চক্র শনাক্ত করে কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়। বাংলাদেশের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানাচ্ছে, পুরনো চক্র অপচেষ্টা এখনো পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের ভাবমর্যাদা নষ্ট করার পাশাপাশি নিরাপত্তাবাহিনীগুলোকেও বিতর্কিত করার ছক কষছে এরা।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি নাশকতা চালানোর নিশানা করেছে জাতীয় সংসদ ভবন, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র এবং অন্যান্য জনগুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। এসব স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানোর ষড়যন্ত্র আঁটছে তারা। পুলিশ সদর দফতর সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে দেশব্যাপী গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের বেশ কয়েকজন সদস্য নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করছে। তারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল স্থানে সমন্বিত হামলা চালাবে।

গুরুতর খবর হচ্ছেÑ রাষ্ট্রের সার্বভৌম বাহিনীর সদস্যরা গোষ্ঠীটির নিশানায় রয়েছে। শেখ হাসিনার সময়ে বিডিআর হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর আমাদের সেনাবাহিনীর ভেতরে গভীর ক্ষত তৈরি করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর নানাভাবে দেশপ্রেমিক যোগ্য দক্ষ সদস্যদের বাছাই করে গুম নির্যাতন চাকরিচ্যুতি অপমান লাঞ্ছিত করে পুরো বাহিনীর মনোবল ধসিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হয়। পুলিশের বার্তা থেকে জানা যাচ্ছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের আটক এক সদস্যের সাথে চাকরিচ্যুত দুই সেনা সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। যারা বড় ধরনের নাশকতা করার ছক করে যাচ্ছে। এর আগে একজন পদস্থ সেনা কর্মকর্তা আটক হন, যিনি পরে বরখাস্ত হন। তিনি একদল দুষ্কৃৃতকারীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন; যারা নাশকতা চালাতে প্রস্তুত হচ্ছিল। শেখ হাসিনা প্রতিটি বাহিনীতে নিজের অনুচর তৈরি করেছিলেন। তাদের একটি অংশ ইতোমধ্যে শনাক্ত হয়েছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রয়োজনে আমাদের নিরাপত্তাকাঠামো সবার আগে পরিশুদ্ধ হওয়া দরকার। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সাথে আমাদের নিরাপত্তাবাহিনীর সম্পৃক্ততা দেখাতে দেশী-বিদেশী চক্র ষড়যন্ত্র আঁটছে। এ অবস্থায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে তাদের হামলা থেকে বাঁচানোর পাশাপাশি এ চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিতে হবে। যারা এর সাথে যুক্ত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

একটি দেশের নিরাপত্তা এখন কেবল বাইরের আগ্রাসনের মাধ্যমে ঘটে না। উগ্রপন্থা, প্রক্সি যুদ্ধ, তথ্যসন্ত্রাস আগ্রাসী শক্তিগুলোর হাতিয়ার। নিরাপত্তাবাহিনীর ব্যবস্থাপনার দূষণের মাধ্যমেও আবার সেটি ঘটে। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা এর শিকার হয়েছি। পাশের দেশ থেকে ক্রমাগত আগ্রাসন চালানো হয়েছে। নতুন করে যে নিরাপত্তা হুমকি সেখানেও বহিঃরাষ্ট্রের ইন্ধন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশ নিরাপত্তাসঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের স্বাধীনতা রক্ষা ও নিরাপত্তাকাঠামোর মধ্যে সৃষ্ট বিচ্যুতি মেরামতের অগ্রাধিকার এখন সরকারের সামনে। এ দায়িত্ব সঠিকভাবে সম্পাদন করার মাধ্যমে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।