কুমিল্লার ১৭টি উপজেলায় শত শত হেক্টর জমির আমন ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জেলায় আমন ধানে টুংরো ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ধানের থোড় বের হওয়ার সময় এ ভাইরাস সংক্রমণে কৃষক দিশেহারা।
কৃষি বিভাগ বলছে, ‘জেলাব্যাপী ব্রি-১০৩ জাতের ধানে রোগ দেখা দিয়েছে। ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কাজ করছি।’ আমন ধানের বীজতলায় কীটনাশক স্প্রে না করায় এই সমস্যার সূত্রপাত। সরকারি প্রণোদনার বীজগুলোয় টুংরো ভাইরাস বেশি আক্রমণ করেছে বলে কৃষকদের দাবি।
১৭টি উপজেলার মধ্যে লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, চান্দিনা, বুড়িচংসহ সব উপজেলায় আমন ধানে টুংরো ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। কৃষকরা নানা ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছেন; কিন্তু কোনো কীটনাশকে ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা যাচ্ছে না।
নাঙ্গলকোট উপজেলার কৃষকরা জানান, বাঙ্গড্ডা, পেড়িয়া, রায়কোট উত্তর-দক্ষিণ, হেসাখাল, মক্রবপুর, আদ্রা উত্তর, দক্ষিণ, জোড্ডা পূর্ব, পশ্চিম, মৌকরা, ঢালুয়া, দৌলখাঁড়, বক্সগঞ্জ, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ধানক্ষেতগুলো ভাইরাসের সংক্রমণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সুরপুর গ্রামের কৃষক সোলেমান বলেন, ‘৬০ শতক জমিতে আমন চাষ করেছিলাম। হঠাৎ দেখি, কয়েকটি ধানের গোছা লাল হয়ে গেছে। পরে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিন-চারবার পাঁচ হাজার টাকার কীটনাশক ব্যবহার করি; কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
নাঙ্গলকোট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ‘বিক্ষিপ্ত কিছু জমিতে এই রোগের আক্রমণ হয়েছে। সার্বক্ষণিক টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছি। উপ সহকারীরাও মাঠে কাজ করছেন। কিছু জমিতে অবস্থার উন্নতি হয়েছে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খামারবাড়ি কুমিল্লার উপ পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘জেলাব্যাপী ব্রি-১০৩ জাতের ধানে টুংরো ভাইরাসের সংক্রমণে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আমরা মাঠে মাঠে কাজ করছি। কয়েকদিন পর কৃষক ধান কাটবেন।’
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কুমিল্লা উপ পরিচালক (বীজ বিপণন) মোহাম্মদ নিগার হায়দার খান বলেন, কুমিল্লা অঞ্চলে আমন মৌসুমে এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৭০০ টন বীজ বিতরণ করা হয়েছে। বীজের কারণে টুংরো ভাইরাস হয় না। মূলত এর সংক্রমণ হয় মাটির কারণে।
কুমিল্লা দেশের ‘শস্যভাণ্ডার’ হিসেবে পরিচিত। খাদ্যের জোগান দিয়ে থাকে এই জেলা। কারণ এখানকার মাটি উর্বর এবং সেচব্যবস্থা উন্নত। কুমিল্লা থেকেই কৃষি সমবায় কার্যক্রম শুরু হয়। এ জন্য কুমিল্লায় ধানের থোড় বের হওয়ার সময় টুংরো ভাইরাসের সংক্রমণে কৃষকরা দিশেহারা বোধ করছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, ‘রোগ দেখা দিয়েছে’। আমরা কাজ করছি এ রোগ থেকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু কৃষকরা আমন ধানের বীজতলায় কীটনাশক স্প্রে করেনি। বীজতলায় কীটনাশক ব্যবহার না করায় বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে।
কুমিল্লায় আমন ধানে ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। কৃষকের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের বড় ক্ষতি থেকে বাঁচাতে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই।