যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা গাড়ি, মাঝারি আকারের ট্রাক ও গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। বুধবার (২৬ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘোষণা করেছেন।
তিনি জানান, নতুন শুল্ক স্থায়ী এবং এটি আগামী ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। ৩ এপ্রিল থেকে তা সংগ্রহ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে মোট বিক্রি হওয়া গাড়ির মাত্র ৫০ শতাংশ তৈরি হয় দেশে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়বে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এই করের ফলে বছরে আনুমানিক ১০০ বিলিয়ন ডলার আয় বৃদ্ধি হবে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি উৎপাদনকারী সংস্থাদের সূত্র জানিয়েছে, সারা পৃথিবী থেকে তারা গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানি করে। তাদের ভয়, ট্রাম্পের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে গাড়ি উৎপাদনের খরচ বাড়বে কিন্তু বিক্রি কমবে।
দ্য সেন্টার ফর অটোমোটিভ রিসার্চ এর আগেই জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ধার্য করা করের ফলে গাড়ির দাম অনেকাংশেই বৃদ্ধি পাবে।
জটিল হলো অন্যান্য দেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক
নতুন কর আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক লড়াই আরো জটিল হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উপরন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তারা। এই শুল্কের বোঝা যদি তাদের ওপর আরোপিত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির গড় মূল্য সাড়ে ১২ হাজার ডলারের কাছাকাছি হবে।
এছাড়াও জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, মেক্সিকো, জার্মানিসহ অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, নতুন শুল্ক ঘোষণার ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন গাড়ি শিল্পের সাথে যুক্ত সেই দেশের শ্রমিকেরা।
এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা খোলা মনে আলোচনায় বসতে চান।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন দার লিয়েন তার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একটি বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, ‘এই শুল্ক যে কেবলমাত্র ব্যবসার জন্যই খারাপ, তা নয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমরা আমাদের শ্রমিক, সাধারণ মানুষ ও বাণিজ্যকে রক্ষা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
অন্যদিকে জার্মান অ্যাসোসিয়েশন অফ অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রির প্রধান হিল্ডেগার্ড ম্যুলার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা অশনি সংকেতের মতো। তিনি জানান, ‘এর ফলে সামগ্রিকভাবে ক্ষতি হবে গাড়ি শিল্পের। বিপদে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সাধারণ মানুষ।’
সূত্র : ডয়চে ভেলে