বছরের প্রথম দু’মাসে সোনালী লাইফে’র বীমাদাবি পরিশোধে ৬২ ভাগ প্রবৃদ্ধি
২০২৫ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কোম্পানিটি মোট ৬৫ কোটি টাকার বীমাদাবি পরিশোধ করেছে, যা ২০২৪ সালের প্রথম দু’মাসে ছিল ৩৯ কোটি টাকা।
চলতি বছরের প্রথম দু’মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্সে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বীমাদাবি পরিশোধে প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কোম্পানিটি মোট ৬৫ কোটি টাকার বীমাদাবি পরিশোধ করেছে, যা ২০২৪ সালের প্রথম দু’মাসে ছিল ৩৯ কোটি টাকা। দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও গ্রাহকদের বীমাদাবি ৭ দিনের মধ্যে মিটিয়ে দেয়ার রেকর্ড অব্যাহত রেখেছে দেশের এই অন্যতম লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।
কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যথাক্রমে ৩১ কোটি ৭৬ লাখ এবং ৩১ কোটি ৩১ লাখ টাকার বীমাদাবি পরিশোধ করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালের প্রথম দু’মাসে ছিল ১৯ কোটি ও ২০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে বীমাদাবি পরিশোধে ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ২০৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে সোনালী লাইফ।
২০২৪ পঞ্জিকাবর্ষে সোনালী লাইফ ৩৮০ কোটি টাকার বেশি বীমাদাবি পরিশোধ করেছে, জানান কোম্পানির কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ও বন্দর বিভাগ চট্টগ্রামে সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি। কোম্পানিটির ২৩১টি শাখার মধ্যে প্রায় অর্ধেক শাখাই (১০৩টি) চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় অবস্থিত, যেখানে প্রায় ২০ হাজার ৯৮২ জন মাঠকর্মী কাজ করছেন।
গত ১১ বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায়, ২০২৪ সালে এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, সোনালী লাইফ গ্রাহকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, বীমা দাবি এবং সাত দিনের মধ্যে মৃত্যুদাবি পরিশোধে এগিয়ে রয়েছে।
ভোলা লালমোহনে মো. রাজিব ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি মাত্র দুই কিস্তি জমা দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। মরহুমের নমিনী এবং স্ত্রী ইসরাত জাহান বলেন, “বীমার পূর্ণ দাবি এক লাখ ৮৪ হাজার ৯০০ টাকা মাত্র দুই দিনের মধ্যে পরিশোধ করেছে সোনালী লাইফ।”
সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্সের পরিচালক শেখ মো. ড্যানিয়েল বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কাজ পরিচালনা, প্রিমিয়াম দেয়ার সহজ পদ্ধতি, আধুনিক ইআরপি সফটওয়্যারের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা, সঠিক সময়ে বীমাদাবি পরিশোধসহ অসংখ্য ইতিবাচক দিক রয়েছে যা সোনালী লাইফকে করেছে অনন্য ও অপ্রতিরোধ্য। সোনালী লাইফের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো গ্রাহকের প্রতি প্রতিশ্রুতি রক্ষা, এবং তার ফলে অর্জিত প্রতিষ্ঠানটির উপরে গ্রাহকের সন্তুষ্টি। প্রতিটি গ্রাহকের বীমাদাবি যথাসময়ে পরিশোধ করা সোনালী লাইফের অন্যতম মূল অঙ্গীকার।”
নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান আইডিআরএ-এর ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি জীবন বীমা কোম্পানি ৯৯ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বীমাদাবি পরিশোধ করেছে, যার মধ্যে সোনালী লাইফ ৯৯.১১ শতাংশ পরিশোধ করেছে। টাকার অংকে সোনালী লাইফ সর্বোচ্চ ৩৮০ কোটি টাকা বীমাদাবি পরিশোধ করেছে এবং বাংলাদেশের শীর্ষ পারফর্মিং ৬টি কোম্পানির মধ্যে স্থান পেয়েছে।