দেশের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি বিজ্ঞানীদের অবদান অনস্বীকার্য। গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ পেয়েছেন তিন বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী। সর্বোচ্চ এ রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত এই তিন কৃতী কৃষিবিদকে সংবর্ধনা দিয়েছে কৃষিবিদ সাংস্কৃতিক সংস্থা।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। সংবর্ধিত তিন কৃষি বিজ্ঞানী হলেন—অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিম ও ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী।

অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত তিন কৃষিবিদকে ফুলের তোড়া, উত্তরীয় ও ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মাননা জানানো হয়। একইসাথে ইতোপূর্বে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ ও মৃন্ময় গুহ নিয়োগী এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত ড. এম এ মজিদ ও ড. জাহাঙ্গীর আলম খানকেও সংবর্ধনা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের কৃষির আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ এই স্বীকৃতি শুধু তিনজন কৃষি বিজ্ঞানীকেই সম্মানিত করেনি; বরং পুরো কৃষি খাতকে গর্বিত করেছে।

অনুষ্ঠানে অতিথিদের বক্তব্য শেষে অনুভূতি প্রকাশ করেন সংবর্ধিত অতিথি অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিম, কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী ও অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম।

অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিম বলেন, ‘আমি কখনো পুরস্কারের পেছনে দৌড়াইনি। বরং পুরস্কারই আমার পেছনে দৌড়েছে। এর আগে আমি অনেক পুরস্কার পেয়েছি।’ তিনি দেশের কৃষির উন্নয়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী জানান, তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়ার আশা করেননি। এমনকি প্রথমবার পুরস্কারের জন্য আবেদন করতেও রাজি ছিলেন না। তবে শেষ মুহূর্তে অনেকের পরামর্শে আবেদন করেন। পুরস্কার পাওয়ায় গর্বিত বলেও জানান তিনি।

নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. আব্দুল বাকী পদোন্নতির ক্ষেত্রে নানা বাধার কথাও উল্লেখ করেন। কর্মজীবনে পদোন্নতি নিয়ে নিজের ক্ষোভের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষি গবেষণা ও কৃষিবিদদের যথাযথ মূল্যায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা প্রয়োজন।

অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম (জেড করিম) বলেন, কৃষিতে এখন নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। আগের মতো পর্যাপ্তসংখ্যক বিজ্ঞানী নেই। কৃষির উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন প্রজন্মের কৃষি বিজ্ঞানী তৈরি করতে হবে। একইসাথে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বক্তারা বলেন, কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ কৃষিবিদ তৈরির ওপর আরো গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনকে আরো টেকসই ও আধুনিক করার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: আব্দুর রহিম, সুপ্রিম সীড লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাসুম, স্পেক্ট্রা হেক্সা ফিডসের স্বত্বাধিকারী মো: আহসানুজ্জামান, এ‍্যাবের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান কায়সারসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

কৃষিবিদ সাংস্কৃতিক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দীন আহমেদ স্বাগত বক্তব্য দেন। সংগঠনের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম রাঙ্গা অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।