বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ২৬টি কোম্পানির সাথে নতুন বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করে দেশী-বিদেশী উভয় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে জোরালো সাড়া পেয়েছে।

বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরে (২৪ জুলাই-২৫ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশে মোট ৪১৮.৭৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী ২৬টি প্রতিষ্ঠানের সাথে বেপজা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং আরো বিনিয়োগ আকর্ষণের পদক্ষেপ সম্পর্কে তার কার্যালয়ে জাতীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।

বেপজা সভাপতি বলেন, বর্তমানে বেপজার আওতাধীন রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে (ইজেড) প্রায় ৫৬০টি কোম্পানি রয়েছে, যার মধ্যে ৪৪৮টি চালু রয়েছে এবং ১১২টি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

বেপজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে এসব কোম্পানি ইতোমধ্যে ১৭ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছে, যার মধ্যে ১২ কোটি ৯৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার এসেছে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ থেকে।

তিনি বলেন, এই অর্জন বেপজার কার্যকর বিনিয়োগ উৎসাহ কৌশল এবং স্থানীয় ও বিদেশী উভয় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরে। বেপজা সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে সচেষ্ট রয়েছে এবং এতে অবদান অব্যাহত রাখবে।

জিয়াউর জানান, আটটি ইপিজেড এবং বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের মোট আয়তন মাত্র ৩ হাজার ৪৪৫ একর এবং এসব অঞ্চল ইতোমধ্যে ৩৮টি দেশ থেকে বিনিয়োগ পেয়েছে।

তিনি জ্বালানি ও অবকাঠামো, আইসিটি এবং ইলেকট্রনিক্স, কৃষি ব্যবসা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ফার্মা-রাসায়নিক এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই অন্বেষণের উপর জোর দেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে...স্থান সীমাবদ্ধতা, যোগাযোগ অবকাঠামো, পুরাতন নীতিমালা ইত্যাদি। তবে, আমরা এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি।

বাংলাদেশের রফতানি খাতকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে বেপজার ভূমিকা বর্ণনা করে জিয়াউর রহমান বলেন, বেপজার আওতাধীন আটটি ইপিজেডের পরিচালিত উদ্যোগগুলো চলতি অর্থবছরের ২৫ অর্থবছরের শেষ আট মাসে ৫,৫১২.০২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ইপিজেডের শিল্পগুলো বাংলাদেশের জাতীয় রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। গত অর্থবছরে (২০২৩-২৪) ইপিজেডের উদ্যোক্তাদের রপ্তানি ছিল ৭.১ মিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট জাতীয় রফতানির ১৬ শতাংশ।

তিনি আরো বলেন, বেপজা দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু নতুন ইপিজেড স্থাপনের পরিকল্পনা করছে যা রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি করবে। তাছাড়া, ডিজিটাইজেশন এবং অটোমেশনের মাধ্যমে পরিষেবা সরলীকরণ প্রক্রিয়া চলছে। ফলস্বরূপ, নতুন বিনিয়োগকারীরা আরো বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবে যার ফলে রফতানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, বেপজা সরকারকে ইপিজেডের উদ্যোক্তাদের রফতানি ভর্তুকি দেয়ার অনুরোধ করেছে, যা শেষ পর্যন্ত রফতানির পরিমাণ বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সূত্র : বাসস