বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বীর জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে দীর্ঘ দেড় দশক পর গুম, খুন, অপহরণের ভয়হীন-স্বাধীন সার্বভৌম এক গণতান্ত্রিক পরিবেশে দেশের আপামর জনগণ এ বছর পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করছে। এবারের ঈদ আনন্দে তাই যোগ হয়েছে উচ্ছ্বাস-উৎসাহ-উদ্দীপনার এক নতুন মাত্রা'।

রোববার পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘ত্যাগ-তাকওয়া আর সংযমের শিক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর ব্যক্তি, পরিবার সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় জীবনকে সুন্দর ও পরিশুদ্ধ করার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর বিশ্বজনীন ঐক্য, সংহতি, সহমর্মিতা এবং অনাবিল আনন্দের বার্তা নিয়ে এলো পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও মোবারকবাদ। ঈদ মুবারক।‘

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি জীবনকে পরিশুদ্ধ ও সংযমী করে গড়ার লক্ষ্যে মোমিন মুসলমানেরা মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর হৃদয় আনন্দে উপচে পড়া ঈদুল ফিতর সমাগত হয়। বীর জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে দীর্ঘ দেড় দশক পর গুম, খুন, অপহরণের ভয়হীন-স্বাধীন-সার্বভৌম এক গণতান্ত্রিক পরিবেশে দেশের আপামর জনগণ এ বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে। এবারের ঈদ আনন্দে তাই যোগ হয়েছে উচ্ছ্বাস-উৎসাহ-উদ্দীপনার এক নতুন মাত্রা।’

তিনি আরো বলেন, তবে মানুষের মনে পবিত্র আনন্দ-উচ্ছ্বাসের এমন এক বাধাহীন ঊর্মিমুখর সময়েও অনেক মায়েদের মনে আনন্দ নেই। অনেক পরিবারে নেই উৎসবের আমেজ। কারণ ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ দেড় দশকের গুম, খুন, অপহরণ, জুলুম নির্যাতনে সন্তান, স্বজনহারা লাখো পরিবারে নেমে এসেছিল অন্ধকার। শুধু জুলাই-আগস্টেই পলাতক স্বৈরাচারের পতনের শেষ দিনগুলোতে প্রাণ হারিয়েছেন নানা শ্রেণি পেশার হাজারো মানুষ।

ছাত্র-যুবক-কৃষক-শ্রমিক-রাজনৈতিক কর্মী কিংবা নিরীহ পথচারী এমনকি নারী শিশু বৃদ্ধ পর্যন্ত ফ্যাসিস্টের বুলেট থেকে রক্ষা পায়নি। আহত হয়েছেন ২০ সহস্রাধিক মানুষ।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ পতন আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারগুলোতে আজ তাই ঈদ উৎসবের বাধভাঙা উচ্ছাস নেই। ঈদের দিনেও হয়তো সন্তানহারা কোনো মায়ের চোখে অশ্রু। এই আনন্দঘন সময়েও স্বজনদের হৃদয়ে আপনজন হারানোর নিঃশব্দ কান্না। মাফিয়া চক্রের নির্মমতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত প্রিয় মানুষটির কাছে বসেই অনেককে ঈদ আনন্দের এই দিনটি কাটাতে হচ্ছে আশা-নিরাশা আর হতাশায়।

তারেক রহমান আরো বলেন, ঈদুল ফিতর নির্মল আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মর্মবাণী মানবজাতির কাছে পৌছে যায় তা হচ্ছে ‘সকলের তরে সকলে আমরা’। এই মর্মবাণী মানসিক কদর্য, অন্যায়, অবিচার ও নিষ্ঠুর সামাজিক অসাম্যকে অতিক্রম করে এক নিবিড় ভ্রাতৃত্ববোধের প্রেরণা জাগায়। আর এই প্রেরণায় উদ্দীপ্ত হয়ে সমাজের অপেক্ষাকৃত দরিদ্র, অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি সাহায্য ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া মুসলমান হিসাবে আমাদের কর্তব্য।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ফ্যাসিবাদী শাসন চালাতে গিয়ে যারা মানুষের ঈদ উৎসবের আনন্দকে ধ্বংস করে দিয়েছে, যারা অস্ত্রের জোরে মায়েদের বুক থেকে তাদের প্রিয় সন্তানদের কেড়ে নিয়েছে, যারা দেশের অসংখ্য অগণিত সন্তানকে পিতৃহারা-মাতৃহারা করেছে, এই বাংলাদেশে তাদের বিচার হতেই হবে। যেকোনো মূল্যে পলাতক স্বৈরাচার আর তাদের দোসরদের বিচারের মুখোমুখি করার মাধ্যমে দেশে আইন ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করে সন্তানহারা মায়েদের মনে স্বজনহারা শোকসন্তপ্ত পরিবারে একটু হলেও সান্ত্বনার বার্তা দেয়া হবে। এবারের ঈদে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

তিনি আরো বলেন, ঈদুল ফিতরের দিনে আমি আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য।