দিনাজপুরে দায়ের করা একটি মামলাকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে এনসিপি নেতা আরিফ মুনসহ পাঁচজনের মুক্তি, সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছেন সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের একদল বাসিন্দা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সুন্দরপুর গ্রামবাসীর পক্ষে আকলিমা বেগম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। পরে দরবারপুর গ্রামের নারী-পুরুষ মানববন্ধন করে একই দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

লিখিত বক্তব্যে আকলিমা অভিযোগ করে বলেন, সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামে আমার দাদা শ্বশুরের নামে ৫০ শতক জায়গা রয়েছে। জায়গাটি আমাদের দখলে না থাকায় কাগজপত্র এবং দলিল করে দিবে বলে আব্দুস সামাদ জানায়। সেটেলম্যান্ট অফিসারের সাথে আব্দুস সামাদের সুসম্পর্ক রয়েছে এমন কথা বলে জমির দলিল করে দিবে এই অজুহাতে সরল বিশ্বাসে আব্দুস সামাদকে পর্যায়ক্রমে ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করি। ওই জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করে আমরা বসবাস করতে শুরু করি। পরে জানতে পারি আব্দুস সামাদ দিনাজপুর সেটেলম্যান্ট অফিসের স্বাক্ষর ও সীলযুক্ত সিএস নম্বর-৩২১ খতিয়ানের কাগজ দেয়। যাচাই করে দেখা যায় ভুয়া দলিল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান, ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা আব্দুস সামাদের কাছে ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা শুরু করে। বিষয়টি উপজেলা যুবশক্তির মুখ্য সংগঠক আজমির হোসেনকে সহায়তার জন্য জানানো হয়। টাকা উদ্ধারের জন্য এনসিপি নেতা যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগাঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন ৫ জুলাই শহরের লিলিড়মোড়ে আব্দুস সামাদের কাছে পাওনা টাকা ফেরত চান। একসময় আব্দুস সামাদ তার ছেলে মামুনকে ফোন দেয়। মামুন পুলিশকে খবর দিলে। দিনাজপুর বড়মাঠ থেকে পুলিশ আরিফ মুন, আজমির হোসেন, মো: হাসিন ইশরাক মিমসহ পাঁচজনকে আটক করে।

কোতয়ালী থানায় বিশেষ একটি দলের নেতাকর্মীরা মব সৃষ্টি করে রাজনৈতিক চাপের মুখে আব্দুস সামাদের ছেলে মামুনের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় আরিফ মুনসহ পাঁচজনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। আব্দুস সামাদকে অপহরণ বা চাঁদা দাবি করে নাই।

আমরা মনে করি, আসামিরা সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান, শিক্ষিত। তারা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের স্বীকার। আমরা গ্রামবাসী পুলিশ প্রশাসন ও আদালতের কাছে মিথ্যা মামলার সঠিক তদন্ত ও ন্যায় বিচার চাই।

সংবাদ সম্মেলনে মমতাজ বেগম, মোছা. ঋতু, আকলিমা বেগম, জবা খাতুন, সুরমা ও মাহবুবা আক্তার রুনীসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।