রাজনগর (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে টেংরা ইউনিয়নের অন্তত সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর-হরিপাশা এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে এ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পানির তীব্র চাপে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুর, কাঁচারী, একামধু, কান্দিরকুল ও পণ্ডিতনগর গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
এদিকে নদীর পানি বাড়তে থাকায় রামভদ্রপুর, সালন, পাইকপাড়া, ডেফলউড়া, গণেশপুর, আকুয়া, কোনাগাঁও, টগরপুর ও ভাঙ্গারহাট এলাকায়ও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বন্যার পানিতে বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ায় অনেক পরিবার মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের উঁচু স্থানে কিংবা আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। দুর্গত এলাকায় খাবার পানি, গবাদিপশুর খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রীর সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আকস্মিক এ বন্যার পর উপজেলা প্রশাসন দুর্গত মানুষকে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার বলেন, উজিরপুর এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি দেখা দিলে সকাল থেকে স্থানীয়দের নিয়ে মনু নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করি। কিন্তু পানি বৃদ্ধির কারণে বিকেল ৪টার দিকে বাঁধ ভেঙে তাৎক্ষণিক ছয় থেকে সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশের কয়েকটি স্কুলে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।