তাদের পরিচয় নারী আইনজীবী। তারা কয়েকদিন আগে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের দফতর অবধি চলে গিয়েছিলেন স্মারকলিপি নিয়ে। তবে বিষয়বস্ত জানার পর তাদেরকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিল।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় আইন সহায়তা দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধনী পর্বের র‌্যালির প্রথম কাতারে ছিল তাদের অবস্থান। জাতীয় লিগ্যাল এইড কমিটি অর্থায়নে কেনা হলুদ শাড়ি তাদের পরনে, হাতে নানা শ্লোগান খচিত বর্ণিল কুলা ।

তবে হঠাৎই পরিস্থিতি পাল্টে যায় খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারাসহ সাধারণ আইনজীবীরা কর্মসূচিতে এসে পৌঁছালে। আদালত অঙ্গনে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে চিহ্নিত, বিগত দিনে পিপি, এপিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এই সব নারী আইনজীবীকে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির প্রথম কাতারে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অনেকেই। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দ্রুত তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে অন্যদেরকে সামনে এনে র‌্যালী শুরু করা হয়।

খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুরুল হাসান রুবা আমার দেশকে বলেন, ‘কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে দেখি আওয়ামীপন্থী নারী আইনজীবীরা সেজেগুজে প্রথম কাতারে দাঁড়িয়ে আছে। বিগত দিনে এরা পালিয়ে যাওয়া আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুলের সহযোগী ছিল। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিল। আদালত প্রাঙ্গনে আওয়ামী লীগের হয়ে নানা অনিয়ম করেছে। স্বাভাবিক ভাবেই সাধারণ আইনজীবীরা মারাত্মক ক্ষুব্ধ হন। অবশ্য পরে তাদেরকে সরিয়ে অন্যদের দিয়ে র‌্যালি করা হয়।

জানা গেছে, আওয়ামী আইনজীবীদের মধ্যে রুমানা তালহা, শাম্মী আক্তার, আক্তারুন্নেসা তিতাস, লিপি চৌধুরী, রিক্তা লতা, পালিত, শিপ্রা বিশ্বাস, শিরিন লিপি, সাবেরা সুলতানা, খাদিজা ভুলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। তাদের পরিহিত শাড়ি ও সাজানো কুলা কর্মসূচির ফান্ডে কেনা হয়। কর্মসূচি সাজানোর ক্ষেত্রে আইনজীবী সমিতির মতামত নেয়া হয়নি।

খুলনা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সহকারী জজ ফারাহ দিবা ছন্দা জানান, ঘটনাটি সিরিয়াস কিছু নয়। র‌্যালির শুরুতে কয়েকজনকে নিয়ে আইনজীবীরা আপত্তি তুললে আমরা তাদেরকে বাদ দিয়ে কর্মসূচি করেছি। পরে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল।