মাগুরায় তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত হিটু শেখ (৫০) ও তার ছেলে সজিব শেখকে (১৮) আটক করেছে পুলিশ। অপরদিকে তাদের বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ধর্ষণকারীর বিচার দাবিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দফায় দফায় মিছিল নিয়ে শহরের ভায়না মোড় এলাকায় সমাবেশ করে লোকজন। এ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে মিছিল নিয়ে মাগুরা সদর থানা ঘেরাও করে মিছিলকারীরা।
পরে শাস্তির নিশ্চয়তা পেয়ে ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে বিক্ষুব্ধরা থানার সামনে থেকে চলে যায়।
মাগুরা সদরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার হয় ওই শিশু। বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ওই শিশু ৫/৬ দিন আগে বোনের বাড়ি সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালি গ্রামে বেড়াতে আসে। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) বোনের শ্বশুর হিটু শেখ কৌশলে তাকে ধর্ষণ করে। এতে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে।
দুপুরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যালে রেফার্ড করে চিকিৎসক। পরে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিটু শেখ ও তার ছেলে সজীবকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
মাগুরা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মিরাজুল ইসলাম বলেন, শিশুটি এখনো জীবিত আছে। ভিকটিম পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে হিটু শেখ ও সজিব শেখকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা জিজ্ঞাসাবাদ করে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মিনা মাহামুদা জানান, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত হিটু শেখ ও তার ছেলে সজীব শেখকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মাগুরাতে আইসিইউর ব্যবস্থা না থাকায় শিশুটিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।