শিক্ষা ও গবেষণার প্রগতিশীল পরিসরে নারীর অংশগ্রহণ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। কিন্তু তাদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ে সচেতনতা এখনো প্রয়োজনীয় মাত্রায় পৌঁছায়নি। এ প্রেক্ষাপটে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ফসটারিং ওয়েলনেস : অ্যাড্রেসিং উইমেন’স হেলথ ইন অ্যাকাডেমিয়া’ শীর্ষক এক তাৎপর্যপূর্ণ সেমিনার।

সোমবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেলের (আইকিউএসি) আয়োজনে আইকিউএসি’র সেমিনার কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অ্যাকাডেমিক পরিসরে অধিক মনোযোগ ও নীতিগত অগ্রাধিকার তৈরির লক্ষ্যে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

পরিচালক (আইকিউএসি) প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির ভিসি প্রফেসর ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো: সফিউল ইসলাম আফ্রাদি। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরবি হসপিটালের চিকিৎসক জান্নাতুর নাঈম। এতে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নারী শিক্ষক অংশ নেন।

সেমিনারে ডা: জান্নাতুর নাঈম নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য, হরমোনজনিত জটিলতা, মানসিক চাপ ও কর্মস্থলে স্বাস্থ্য-সচেতনতা বিষয়ে প্রাঞ্জল ও তথ্যবহুল আলোচনা করেন। পরে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীদের নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সাবলীল উত্তর দিয়ে তিনি সেমিনারটিকে আরো প্রাণবন্ত ও অন্তর্দৃষ্টিমূলক করে তোলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিসি অ্যাকাডেমিক অগ্রগতিতে নারীস্বাস্থ্য সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‌‘নারীর স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দায়িত্ব নয়। এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত না করে সত্যিকারের অগ্রগতি সম্ভব নয়।’

তবে নারীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য প্রতিনিয়ত শারীরিক ব্যায়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও ভিসি উৎসাহব্যঞ্জক মন্তব্য করেন। এছাড়া গাকৃবিতে শিগগিরই ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনসহ নারী শিক্ষকবৃন্দের সামগ্রিক স্বাচ্ছন্দ্যমূলক পরিবেশ নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ভিসি।

উল্লেখ্য, এ সেমিনারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীস্বাস্থ্য নিয়ে ইতিবাচক আলোচনার সূচনা হয়েছে যা কেবল তাৎক্ষণিক সচেতনতা নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পরিবর্তনের পথও উন্মুক্ত করেছে বলে মনে করেন অংশ নেয়া ব্যক্তিরা।