চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ৪ নম্বর চরম্বা ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একাধিক মামলার আসামি সৈয়দ হোসেনকে। এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে। একইসাথে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশে তাকে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

জানা যায়, জুলাইয়ের আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে লোহাগাড়া থানায় দুটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেফতার না করে উল্টো তাকে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষজন।

চরম্বার বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের হাতে শাসিত হয়েছি। ৫ আগস্ট তাদের হাত থেকে দেশ মুক্ত হলেও এখনো কিছু কিছু জায়গায় তাদের দোসররা ঘাপটি মেরে বসে আছে এবং বিভিন্ন মাধ্যম ধরে পজিশন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারই একটি প্রমাণ চরম্বা ইউনিয়নের নবনিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ। আমরা অতিদ্রুত তার অপসারণ চাই।

এদিকে তাকে প্যানেল চেয়ারম্যান ঘোষণার পর থেকে আওয়ামী লীগের তৎকালীন এমপি আবু রেজা নদভীর নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত আছে এমন ছবি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার সাথে সৈয়দ আহমদের নানা ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সৈয়দ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মানুষ আমার নামে ষড়যন্ত্র করছে। আমি চরম্বা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। থানা কমিটির বর্তমান সদস্য এবং চরম্বা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।’

এদিকে তার নামে লোহাগাড়া থানায় থাকা মামলা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে বা যারা মামলা দিয়েছে তারাই বলতে পারবেন কেন দিয়েছেন সেটা। তবে মামলা বাণিজ্য করার জন্যই এসব করেছে বলে আমি মনে করি।’

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতা মির্জা তামিম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে স্বৈরাচারের কোনো দোসর এ রকম একটা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারবে না। এটি আমাদের শহীদদের সাথে গাদ্দারি হবে। তাদের রুহের শান্তি পাবে না যদি আওয়ামী লীগকে আবার পুনর্বাসন করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটি একটা রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সুপারিশের মাধ্যমে হয়েছে বলে আমরা শুনেছে। তাই স্পষ্ট করে বলতে চাই, যে রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের জন্য সুপারিশ করবে তারা শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করবে। আমরা তাদের ক্ষমা করব না।’

এ বিষয়ে জানতে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইনামুল হাছানকে মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।