চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় বন্য হাতির আক্রমণে তিন মাসের এক শিশুর মৃত্যু ও শিশুটির মা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা নিহত শিশুর লাশ নিয়ে পি এ বি সড়ক অবরোধ করে রেখেছে।
শনিবার (২২ মার্চ) সকাল থেকে কেইপিজেড এলাকায় সড়ক অবরোধ করার কারণে সড়কটিতে দীর্ঘ যানজট দেখা দিয়েছে। যা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে বড় উঠানের শাহমীরপুর জমাদারপাড়া এলাকায় বন্য হাতির আক্রমণে ওই শিশুর মৃত্যু ও তার মা মারাত্মক আহত হন।
নিহত শিশু মো: আরমান জাওয়াদ ওই এলাকার মোহাম্মদ ইব্রাহীমের ছেলে। হাতির আক্রমণে আহত শিশুটির মা খজিমা বেগম। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
শিশুটির বাবা মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, হাতির পাল আমার সন্তানকে মেরে ফেলেছে। আমার স্ত্রীকেও আহত করেছে। আমার দাবি, আর যেন কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। বন্য হাতির পালটি আমাদের এলাকা থেকে স্থায়ীভাবে সরানোর উদ্যোগ নেয়া হোক।
আন্দোলনকারীরা বলেন, হাতির পাল এলাকা থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে না নেয়া পর্যন্ত আমরা সড়ক ছাড়বো না। উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও কেইপিজেডের লোকজন এসে এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিলে সড়ক ছাড়ব।
প্রত্যক্ষর্দশীরা জানান, বন্য হাতির পাল রাতের অন্ধকারে তাদের টিনের ঘর ভাঙচুর শুরু করলে শিশুটির মা খজিমা বেগম শিশুটিকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান। এ সময় বন্য হাতি ওই শিশুকে তার মায়ের থেকে কেড়ে নিয়ে শুঁড়ে তুলে আছাড় দেয়। সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসী শিশুটির লাশ নিয়ে কেইপিজেড এলাকায় এসে পিএবি সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের দাবি, স্থায়ীভাবে এলাকা থেকে বন্য হাতির পাল সরাতে হবে। অবরোধের কারণে সড়কের উভয় পাশে প্রায় দীর্ঘ আট কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত রয়েছে।
এর আগে, সর্বপ্রথম ১২ সালের ১ মার্চ শাহমীরপুরের জুয়েল দাশ (১৩), ১৮ সালের ১৩ জুলাই মুহাম্মদপুরের আবদুর রহমান (৭০), একই বছর ১৮আগস্ট বটতলা বারখাইনের আবদুল মোতালেব (৬৮), ৩১ অক্টোবর বড় উঠানের জালাল আহমদ (৭০), ১৯ সালের ২৬ জুন বটতলী গুচ্ছগ্রামের মোমেনা খাতুন (৬৫), ১৪ জুলাই বৈরাগের আক্তার হোসেন (৫০), ২০ সালের ৭ জানুয়ারি বটতলীর মো: সোলাইমান (৭০), ৩ ফেব্রুয়ারি গুয়াপঞ্চকের দেবী রানি দে (৪০), ২০ ফেব্রুয়ারি শাহমিরপুরের মায়া বড়ুয়া (৭০), ২১ সালের ১১ অক্টোবর গুয়াপঞ্চকের অজ্ঞাত (৫০), ২৩ সালের ৬ জুলাই বারখাইনের ছাবের আহমদ (জুনু) (৭০), ২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দৌলতপুরের সৈয়দ আহমদ (লুতু মিয়া) (৫০), ২৩ সেপ্টেম্বর গুয়াপঞ্চকের মো: কাশেম (দুলাল) (৬০), এদিন একই এলাকার রেহেনা বেগম (৩৫), ২১ অক্টোবর বটতলীর হালিমা খাতুন (৬৫), ২৩ অক্টোবর বড় উঠানের মো: আকবারের (৩৮) মৃত্যুর হয়।
সর্বশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি (রোববার) দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষিণ গুয়াপঞ্চক গ্রামের রসুন তালুকদারের বাড়িতে হাতির আক্রমণে মো: নুরুল আবছার (৪২) নামের এক মুদির দোকানি গুরুতর আহত হয়েছেন। এর আগে দায়িত্বরত অবস্থায় মরিয়ম আশ্রম এলাকায় গত শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) মো: হাকিম নামের এক সিকিউরিটি গার্ডের ওপর হামলা করে বন্য হাতির দল। আহত সিকিউরিটি গার্ডের বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার চাতরী গ্রামে। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর কেইপিজেডের গলফ কোর্সে হাতির আক্রমণে ডি হাং কং নামে বাংলাদেশে কোরিয়ান ন্যাশনালের একজন বিনিয়োগকারী গুরুতর আহত হন।
কর্ণফুলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।