এস আলম, আকিজ উদ্দিন ও মিফতাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। রোববার (১৮ মে) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে ১৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলা করে ব্যাংকটি।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ কর্পোরেট শাখার সাসপেন্স বা বিবিধ হিসাব থেকে টাকা উঠিয়ে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট খরচের নামে নিজেরা আত্মসাৎ করে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে এস আলম গ্রুপের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

সূত্র জানায়, পতিত স্বৈরাচারী সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ইতিহাসের সেরা ব্যাংক লুটেরা গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলম মাসুদের পিএস একসময়ে ইসলামী ব্যাংকের দাপুটে ডিএমডি আকিজ উদ্দিন ও মিফতাহ উদ্দিনের নির্দেশে এ সকল আত্মসাতের কর্মকাণ্ড চালানো হয় বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তুলে নিয়ে বিদেশে পাচারের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি অফিসে নিয়মিত মাসোহারা দিত এমন কথা প্রচলিত আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এস আলম গ্রুপের জনৈক সাবেক কর্মকর্তা বলেন, আমরা এখন চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি, লুটপাটের মাধ্যমে সামাজিকভাবে আমাদের মান সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।

সূত্রমতে, এস আলমের নির্দেশে ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ লুটপাটের কারিগর ডিএমডি মিফতাহ উদ্দীন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারি বিভিন্ন এজেন্সি ম্যানেজ করার দায়িত্বে ছিল আকিজ উদ্দিন।

উল্লেখ্য, পটিয়ার সন্তান হওয়ার সুবাদে জুনিয়র ক্যাশিয়ার হিসাবে জয়েন করে মাত্র পনেরো বছরে সে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে এমন কথা বাজারে প্রচলিত আছে। ব্যাংকের ডিএমডি পদ ভাগানো শুধু নয় বরং বিভিন্ন সরকারি এজেন্সির শীর্ষকর্তা এমনকি গভর্নরের সাথে ছিল তার হটলাইন।

ব্যাংকের সাসপেন্সের টাকা আত্মসাৎ মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান, পিএস আকিজ উদ্দিন, মিফতাহ উদ্দিন ছাড়াও অভিযুক্তদের তালিকায় আছে গ্রুপের ম্যানেজার আরিফ আহমেদ, ক্যাশিয়ার ইফতেখার উদ্দিন, সিরাজুল কবির, মোস্তান বিল্লাহ আদিল, রবিউল হোসেন, আনিস উদ্দীন, হুন্ডি ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন মিনহাজ, আবুল বশর প্রমুখ।

মামলার ব্যাংকের মুখ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল এবং ব্যাংকের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান, অ্যাডভোকেট সামশুল আলম, অ্যাডভোকেট কবির আহমদসহ বিপুল সংখ্যক আইনজীবী।

এ সময় আইনজীবী শফিকুল ইসলাম চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট শওকত হোসেনসহ কতিপয় আইনজীবী অন্যায্যভাবে এজলাসে হট্টগোলের চেষ্টা করলে উপস্থিত আইনজীবীরা তাদেরকে থামিয়ে দেন বলে প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানিয়েছেন। আদালত দুদককে মামলাটি তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।

মামলার বিষয়ে ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ কর্পোরেট শাখার ব্যবস্থাপক এস ভিপি জামাল উদ্দীনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘ব্যক্তির প্রতি আমাদের কোনো আক্রোশ নেই। ইসলামী ব্যাংকের পাওনা আদায়ে আমাদের সম্ভাব্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে কারণ জনগণের আমানতের সুরক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’