খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাঞ্ছনাকারীদের বিচারসহ পাঁচ দফা দাবি পূরণে গত ৫ মে সাত কর্মদিবসের আলটিমেটাম দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। ওইদিন অনুষ্ঠিত সমিতির সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। আলটিমেটাম দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন শিক্ষকরা। আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। তাই আগামী রোববার সমিতির সাধারণ সভায় ক্লাসে ফেরা না ফেরার সিদ্ধান্ত হবে বলে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো: সাহিদুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো: সাহিদুল ইসলাম এ কথা জানান।
অন্যদিকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাছুদের আমলে গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যানসহ নতুন তদন্ত কমিটি গঠন ও দ্রুততম সময়ে ক্লাস শুরুর দাবিতে কুয়েট শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কুয়েটের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের বারান্দায় স্থাপিত সংগ্রামের মঞ্চে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
শিক্ষার্থীরা একইসাথে সাবেক ভিসির আমলের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ১৩টি কারণে প্রত্যাখ্যান করেন। অন্তর্বর্তীকালীন ভিসির সাথে পৃথক বৈঠক থেকে নিজেদের দাবির কথা জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সবমিলিয়ে প্রায় তিন মাস ধরে চলা কুয়েটের অচলাবস্থার অবসান না হয়ে বরং ক্রমান্বয়ে সঙ্কট বাড়ছেই।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দাবির বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা জানতে আমরা শিক্ষক সমিতির নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ ভিসির সাথে দেখা করেছি। তিনি আমাদের দাবির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে দিয়ে আমাদেরকে দ্রুততম সময়ে ক্লাসে ফেরার পথ সুগম করতে আমরা প্রশাসনকে সাত কর্মদিবস সময় দিয়েছিলাম। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে আমাদের দেয়া সাত কর্মদিবস শেষ হয়েছে। আগামী শুক্রবার এবং শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে রোববার শিক্ষক সমিতির সভার মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব এবং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা আমাদের অবস্থান জানিয়ে দেব।
কুয়েট শিক্ষার্থী রাহাতুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাক্তন ভিসির পতনের পর নতুন ভিসি আসার পরও আমাদের সেই পুরনো প্রহসনের তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে শোকজ পাঠানো হচ্ছে। দফায় দফায় আমাদের উপর স্থানীয়রা হামলার হুমকি দিচ্ছে। তার সাথে আমাদের ৪ মে-তে ক্লাস শুরু করার কথা হলেও আমাদের ক্লাস শুরু হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা শঙ্কিত।’
তিনি আরো বলেন, আমরা বার বার বলছি, এই তদন্ত প্রতিবেদন নিরপেক্ষ নয়। এমনকি আমরা শোকজ চিঠির পরও যেই কারণ দেখেছি তাতে এইটা পরিষ্কার, একটা চক্র আমাদের শিক্ষকদের লাঞ্ছনার বিচারকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের অন্যায়ভাবে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। সুতরাং আমরা এই প্রতিবেদন প্রত্যাহার করি।
কুয়েট শিক্ষার্থীরা তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যানের ১৩টি কারণ তুলে ধরেন। এছাড়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক প্রহসনমূলক শাস্তি আরোপের জন্য যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে তা বাতিল করে নতুন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, ১৮ ফেব্রুয়ারি হামলার এবং শিক্ষকদের উপর সংঘটিত সকল হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নতুন তদন্ত কমিটির কার্যক্রম ও ক্লাস-পরীক্ষা সমান্তরালে চালুরও দাবি জানান। সেই সাথে আগামী সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববারের মধ্যে তারা ক্লাসে ফিরে যাওয়াসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান।
অপরদিকে, কুয়েটের সাম্প্রতিক ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধানের নিরপেক্ষতা নিয়েও ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত চলাকালেই একজন সাবেক শিক্ষার্থীর সাথে মোবাইলে কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হওয়ায় যেমন এটি স্পষ্ট হয় তেমনি তদন্ত কমিটি যাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে সেটিও প্রকাশ হয়ে পড়ে।