সিলেটের পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবিতে অবশেষে লাগাতার কঠোর আন্দোলনে নেমেছেন সিলেটের মালিক ও শ্রমিকরা।
শনিবার (২৮ জুন) ভোর ৬টা থেকে কর্মসূচির প্রথম ধাপে সিলেটের ভোলাগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, জাফলং, কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর এলাকার লোড-আনলোড পয়েন্ট এলাকায় পরিবহন মালিক-শ্রমিক, ব্যবসায়ী, বেলচা শ্রমিক, বালু শ্রমিক ও পাথর শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করেন।
এ দিন ভোর থেকে কোনো গাড়িতে লোড-আনলোড করেননি মালিক-শ্রমিকরা। এদিকে তাদের ডাকা লোড-আনলোড পয়েন্টের ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতির প্রথম দিন শান্তিপূর্ণভাবে অতিবাহিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে সকালে জাফলং বল্লাঘাট পয়েন্টে মালিক-শ্রমিকরা সংক্ষিপ্ত এক পথসভা করেন।
জাফলং ট্রাকচালক আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইয়াসীন আলীর সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক ও ট্রাক, পিকআপ কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির মহাসচিব শাব্বীর আহমদ ফয়েজ, সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সহ সভাপতি নারায়ান পুরকায়স্থ ফনি, ট্রাক মালিক সমিতির সহ সভাপতি কয়ছর আলী জালালী, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মো: মনছুর আলম, জাফলং ট্রাকচালক আঞ্চলিক কমিটির নুরুল আমীন, গুচ্ছগ্রাম ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি স্বপন আহমদ, জাফলং পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আজিজুর রহমান আজিজ।
ভোলাগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় কর্মবিরতি পালনকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল জলিল, সদস্য সচিব মো: নাজির আহমদ স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক শুকত আলী বাবুল, ক্রাশার মিল মালিক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হেকিম, পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিমুল ইসলাম আঙ্গুর, ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান, মামুন রশিদ, আব্দুস সামাদ, ইলিয়াস আলী, ক্রাশার মিল মালিক রফিকুল ইসলাম, বাবুল চেয়ারম্যান, আবু জাফর দুলন।
এছাড়া ধোপগুল এলাকায় কর্মবিরতি পালনকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নুর আহমদ খান সাদেক, সিলেট সদর পাথর বালি ও স্টোন ক্রাশার মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো: মন্তাজ আলী, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল আলম সাদ্দাম, সিলেট জেলা পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য জয়নুল হক, সিলেট সদর পণ্য পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি মুহিবুর রহমান সোলেমান, মো: শানুর মিয়া, নাজিম উদ্দিন ইমরান মেম্বার, আব্দুল হক, সালুটিকর পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো: দিলু মিয়া, এয়ারপোর্ট থানা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল আহাদ, সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমদ, আব্দুল আহাদ, নুরুল ইসলাম প্রমুখ।
সিলেট জেলা পাথর মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল জলিল জানান, শ্রমিক ও মালিকরা এ দেশেরই নাগরিক এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু সরকারের অবহেলার কারণে তারা এ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। আমাদের ধারাবাহিক কর্মসূচি চলবে।
জানা যায়, সিলেটের পাথর কোয়ারি খুলে দেয়ার দাবিতে গত ২৪ জুন সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা পাথর-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সমাবেশ থেকে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এতে সিলেটের বিএনপি-জামায়াত নেতৃবৃন্দসহ অন্য রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নিয়ে দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করেন।
এদিকে ৪৮ ঘণ্টার এ কর্মবিরতি সোমবার ভোর ৬টায় শেষ হবে। এরপর শুরু হবে সিলেট জেলায় পণ্য পরিবহনে কর্মবিরতি। এতে জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্য পরিবহন ও গণপরিবহন বন্ধ রাখা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে পরিবেশবাদী সংগঠন বাপা, বেলা ও অন্যদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের পাথর কোয়ারি এলাকাগুলোকে প্রতিবেশ সঙ্কটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে সরকার। সেখানে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা দেয়। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে দেশের অন্য এলাকাগুলোতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলেও সিলেটের পাঁচটি কোয়ারিতে তা এখনো বলবৎ রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞায় সিলেট অঞ্চলে প্রত্যক্ষভাবে পাথর খাত নির্ভর প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি পরোক্ষভাবে প্রায় এক কোটি মানুষের জীবিকা এ খাতের সাথে জড়িত থাকায় অঞ্চলজুড়ে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কট।