দেশে গণহত্যা চালিয়েও আওয়ামী লীগের কোনো অনুশোচনা নেই মন্তব্য করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে। বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক, মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তরুণ ছাত্র যুবককে সেই ৩১ দফার অ্যাম্বাসেডর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।’
আওয়ামী শাসনামলে লুটপাট, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির নানা পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এগুলো আমার তথ্য না, এগুলো দুর্নীতি সংক্রান্ত শ্বেতপত্র কমিটি প্রকাশ করেছে।’
শনিবার (১৭ মে) খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় খুলনা ও বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের একমাত্র ম্যান্ডেট ছিল দেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা। প্রফেসর ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি অনন্তকাল বিচার ও সংস্কারের বাহানা দিয়ে গণতন্ত্রকে সংকীর্ণ করবেন না। আপনার সরকারে এনসিপির প্রতিনিধি আছে। বিদেশি নাগরিককে আপনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করেছেন। আপনার উপদেষ্টা পরিষদে ফ্যাসিবাদের দোসর রয়েছে। অবিলম্বে তাদেরকে পদত্যাগ করতে বলুন অথবা আপনি তাদেরকে অপসারণ করুন।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের সাথে কথা না বলেই অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এখন নির্বাচনের দাবিতে যদি সরকার ঘেরাও করি সেটা হবে দুর্ভাগ্যের। নিজেকে অসীম ক্ষমতার অধিকারী ভাববেন না। বিদেশে গিয়ে কী চুক্তি করে এসেছেন তা জানান।’
সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন নাসিরের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি এস এম জিলানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, বাগেরহাটে আততায়ীর গুলিতে নিহত তানু ভূঁইয়ার বিধবা স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক ফখরুল ইসলাম রনি, যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় যাদের বয়স ১৮ বছর ছিল তারা কেউই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি বলে অভিযোগ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চার থেকে সাড়ে চার কোটি ভোটার কেউই গণতন্ত্রের স্বাদ পাননি। শেখ হাসিনা খুনের রাজত্ব কায়েম করেছিল। জতিসংঘের রিপোর্ট বলছে, আন্দোলন দমন করতে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে এক হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে।’
এ সময় সমাবেশ শেষে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের শিল্পীরা সমাবেশ মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।