শ্রীলঙ্কার তিন নাগরিককে ব্যবসা করার প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশে এনে জিম্মি করে আড়াই কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল অপহরণকারীরা।

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরের পর খুলনা রেঞ্জ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মো: রেজাউল হক।

এর আগে বুধবার (২৩ এপ্রিল) সারারাত অভিযান চালিয়ে বাগেরহাটের মোল্লাহাট থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি রেজাউল হক জানান, ‘শ্রীলঙ্কান নাগরিক মালাভি পাথিরানা (৮৫), তার স্ত্রী টিকিরি পাথিরানা (৭৫), থুপ্পি মুদইয়ান সেল্যাগ নীল ব্যবসায়িক উদ্দেশে মোল্লাহাটের শহিদুল শেখ নামের এক ব্যক্তির আমন্ত্রণে গত ২২ এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে তাদের পল্টনের একটি কম দামি হোটেলে রাখা হয়। পরে তাদের যমুনা ফিউচার পার্কে নেয়া হয়। সেখানে ঘুরিয়ে দেখানোর পর তাদেরকে একটি মাইক্রোবাসে করে বাগেরহাটের মোল্লাহাটের একটি বাড়িতে এনে আটকে রাখা হয়।

সেখানে তাদের কাছে পাঁচ কোটি টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। তারা এত টাকা দিতে পারবে না জানালে অপহরণকারী কাজী এমদাদ হোসেন, শহিদুল শেখ, জনি শেখ ও এস এম সামসুল আলম এই চারজন শ্রীলঙ্কায় তাদের পরিবারকে ফোন করে বাংলাদেশের একটি নম্বর থেকে মুক্তিপণ দাবি করেন।

আড়াই কোটি টাকার মুক্তিপণ প্রদানে রাজি হওয়ায় তাদের মধ্যে মৌখিক চুক্তি হয়। এরপর শ্রীলঙ্কা থেকে চারটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা আনার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কান হাইকমিশন থেকে বাংলাদেশের হাইকমিশন, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের হেড কোয়ার্টারে জানানো হয়। পরে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজিকে জানানো হয়। এরপর পুলিশ শ্রীলঙ্কান তিন নাগরিককে উদ্ধার করতে অভিযানে নামে।

বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে মোল্লাহাট উপজেলার দক্ষিণ আমবাড়ি গ্রামের এমদাদ কাজীর বাড়ি থেকে শ্রীলঙ্কান নাগরিকদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণের সাথে জড়িত মোল্লাহাট উপজেলার দক্ষিণ আমবাড়ি গ্রামের সেরাত কাজীর ছেলে কাজী এমদাদ হোসেন (৫২), সবুর শেখের ছেলে শহিদুল শেখ (২৪), গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার খাটিয়াগড় গ্রামের জাকির শেখের ছেলে জনি শেখ (৩৮) ও চরকুলিয়া গ্রামের এস এম শাহাব উদ্দিনের ছেলে এস এম সামসুল আলম (৪৫) আটক করে খুলনা আনা হয়।

এ সময় ব্রিফিং-এ উপস্থিত মালাভি পাথিরানা তাদের দ্রুততম সময়ে উদ্ধার করায় বাংলাদেশ পুলিশ ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান।