চট্টগ্রামের আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্বের অবসান হতে যাচ্ছে। এ জনপদে প্রায়ই ঘটত হাতির আক্রমণে একের পর প্রাণ হানির ঘটনা। হাতির ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটাত স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন পর কেইপিজেড থেকে হাতির দল চলে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরছে স্থানীয়দের মাঝে।
রোববার (১৩ এপ্রিল) বন বিভাগের বাঁশখালী জলদী রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জানান, ‘হাতিগুলো যাতে সহজে আবার ফিরতে না পারে সেজন্য এআরটি টিমের সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে।’
স্থানীয়রা জানায়, গত কয়েকদিন আগে থেকে দু’টি হাতি কেইপিজেড থেকে বাঁশখালীর বনে চলে যায় সেখান থেকে হাতিগুলো আবার ফিরে এসেছে। আরো একটি হাতিকে বন বিভাগের এআরটি টিমের সুশৃঙ্খল তত্ত্বাবধানে বাঁশখালীর বনে নেয়া হয়েছে।
জানা যায়, বিগত একযুগ আগে থেকে বন্য হাতির দল আনোয়ারার কেইপিজেড এলাকায় বিচরণ শুরু করে। ওই সময় কয়েকদিন ঘুরেফিরে হাতিগুলো চলে গেলেও গত কয়েক বছর ধরে হাতিগুলো কেইপিজেড, দেয়াং পাহাড়ের বটতলী এলাকায় বসবাস শুরু করে। পাহাড় থেকে হাতিগুলো কর্ণফুলী উপজেলার বড় উঠানের দৌলতপুর, দক্ষিণ শাহমীরপুর এবং আনোয়ারার গুয়াপঞ্চক, বৈরাগ, মোহাম্মদপুর, ফকিরখিল, বটতলী, হাজিগাঁও, গুচ্ছগ্রামে নেমে বিগত ছয়বছর ধরে প্রায় ২০ জনের অধিক নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধার প্রাণহানি ঘটিয়েছে। তিন শতাধিক পরিবারের বসতঘর ভাঙচুর ও শত শত একর ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আজিম জানান, গত শনিবার (২২ মার্চ) হাতির আক্রমণে তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হলে ওই দিন ভোর থেকে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। পরবর্তীতে একই মাসের বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ও আনোয়ারা টানেল সংযোগ সড়ক অবরোধ করে হাতি নিরসনে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা।
এ সময় বন বিভাগের আশ্বাসের পর বিক্ষোভ তুলে নেয়া হয়। এখন বন বিভাগের প্রচেষ্টায় হাতিগুলো তাদের নিজেদের জায়গায় বাঁশখালীর বনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন আনোয়ারা-কর্ণফুলীর মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে।
হাতি না থাকার বিষয়ে কেইপিজেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো: মুশফিকুর রহমান বলেন, কেইপিজেডের লেকে হাতিগুলো দেখা যাচ্ছে না। বন বিভাগের কর্মকর্তারা আমাদের নিশ্চিত করেছেন, হাতিগুলো এখন আর কেইপিজেডে নেই।
এবিষয়ে বাঁশখালী জলদী রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, ‘দু’টি হাতি এমনিতেই চলে আসে, বাকি একটি হাতিকে আমাদের এআরটি টিম কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন কৌশলে বাঁশখালী বনে নিয়ে গেছে।
হাতি ফিরে আসার বিষয়ে তিনি জানান, ‘হাতি ফিরে আসতে চাইলে কারো আটকানোর সাধ্য নেই তবে হাতিগুলো যাতে খুব সহজেই ফিরে আসতে না পারে সেজন্য তৈলারদ্বীপ এলাকায় এআরটি টিমের সদস্যরা নিযুক্ত থাকবেন।