গাজীপুরে রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা আরো এক নারী মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ফিমেল এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত তাসলিমা আক্তার (৩০) শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাসেম আলীর মেয়ে। তিনি গাজীপুরের ওই এলাকায় ছেলে-মেয়ে নিয়ে স্বামী হোসেন আলীর সাথে ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

এ নিয়ে ওই ঘটনায় দগ্ধ পাঁচজনের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার রাতে মহানগরীর বাসন থানাধীন মোগরখাল এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

জিএমপির বাসন থানার এসআই সজিব খান ও স্থানীয়রা জানান, মহানগরীর মোগরখালের মোল্লা মার্কেট এলাকার জনৈক নুরুল আমিনের বাসায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভাড়া থাকেন কয়েক শ্রমিক। রোববার সন্ধ্যার পর কাজ শেষে তারা বাসায় ফেরেন। রাতে রান্না করার জন্য চূলা জ্বালাতে দিয়াশলাই জ্বালানোর সাথে সাথে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় আগুনে দগ্ধ হন শিশুসহ পাঁচজন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাদেরকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তাসলিমা আক্তারের মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এর আগে একই ঘটনায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে সীমা আক্তার (৩০) সোমবার সকালে ফিমেল এইচডিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তিনি জানান, গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে নির্গত হওয়া গ্যাস ঘরে জমে ছিল। রান্নার জন্য দিয়াশলাই জ্বালানোর সাথে সাথে ওই গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এসে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ওই ঘটনায় পারভিন আক্তার ৩২ শতাংশ, তার শিশু সন্তান আয়ান (দেড় বছর) ২৮ শতাংশ, নিহত তাসলিমা আক্তারের মেয়ে তানজিলা বেগম (১০) ৯০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।