সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে আবারও জমে উঠেছে পর্যটকদের আনাগোনা। পাথর লুটপাটে বিপর্যস্ত এ এলাকাটি ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। গত শনিবার থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত শত শত পর্যটকের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে সাদাপাথর। খরা কাটিয়ে পর্যটক আগমন বাড়ায় খেয়াঘাটের মাঝি-মাল্লা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। দোকানপাটে বেচা-কেনা বেড়েছে, আয়-রোজগারেও এসেছে গতি।
রোববার (১৭ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা গেছে, খেয়াঘাট পেরিয়ে শত শত পর্যটক নৌকায় চড়ে মূল স্পটে ছুটে যাচ্ছেন। কেউ বন্ধু-বান্ধব, কেউবা সপরিবারে বেড়াতে এসেছেন। আগের সপ্তাহের তুলনায় পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পর্যটকরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠছেন, ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, ‘লুটপাট হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সাদাপাথর হারায়নি।’
কুমিল্লা থেকে আসা এক দম্পতি জানান, ‘এসে সবকিছু দেখে ভালোই লাগছে। লুটপাট বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয়রা তাদের জানিয়েছেন, লুটপাট মূলত বিজিবি ক্যাম্পের দিকে হয়েছে। তারা সাদাপাথরের স্বচ্ছ নীল জলরাশিতে সাঁতার কেটে আনন্দ উপভোগ করেছেন।’
এদিকে, লুটে খালি হওয়া জায়গায় সাদাপাথর প্রতিস্থাপনের দৃশ্যও পর্যটকদের নজর কেড়েছে। ১০ নম্বর খেয়াঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পাথর এনে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।
সিলেট চেম্বারের পর্যটন উপকমিটির সভাপতি ও আন্তর্জাতিক পর্যটন সাংবাদিক হুমায়ুন কবির লিটন জানান, ‘গণমাধ্যমে যেভাবে লুটপাটের খবর এসেছে তা কিছুটা অতিরঞ্জিত। মূল স্পটে তেমন কিছু চোখে পড়েনি, আশপাশ এলাকায় হয়েছে ব্যাপকভাবে।’ তিনি রাঘববোয়ালদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
তদন্তে ধীরগতি, অভিযানে গ্রেফতার ৬
ভোলাগঞ্জের পাথর লুটে গঠিত তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা আরো সময় নিয়েছেন।
এদিকে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সিলেট সদর ও কোম্পানীগঞ্জে পৃথক অভিযানে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোয়াইনঘাটেও অভিযান চালানো হয়েছে।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত আসায় তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
১০৩ জনের তালিকা গোয়েন্দাদের হাতে
একটি অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে, লুটপাটে জড়িত রাঘববোয়ালদের একটি তালিকা গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০৩ জনের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো তালিকার খবর আমি জানি না। তবে এটা নিয়ে কাজ চলছে। যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সময়মতো সব জানতে পারবেন।’
পুরুষশূন্য গ্রাম, অস্ত্র ও মদসহ গ্রেফতার ৪
যৌথবাহিনীর অভিযানে সংলগ্ন কয়েকটি গ্রাম এখন অনেকটা পুরুষশূন্য।
সিলেট সদর উপজেলার ধোপাগুল এলাকায় একটি ক্রাশার মিলের আঙ্গিনায় মাটিচাপা অবস্থায় রাখা ১১ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে হেলাল আহমদ (৩০) ও ফাহিম মিয়া (২৮) নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিক মাহমুদ কবির। তিনি জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। মালিক আজমলকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে অস্ত্র ও ভারতীয় মদসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার মাদক কারবারিরা হলেন- কুতুব উদ্দিন ওরফে পাগলা শাহ (৫৪), আব্দুল ওয়াহিদ (৫৫), জাহিদ আহমদ (২২) ও রুহেল আহমদ (২৬)।
চান ভোলাগঞ্জ ক্লাস্টার ভিলেজে যৌথবাহিনীর টহল টিম অভিযান চালিয়ে তাদের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে একটি এয়ার রাইফেল, দু’টি রামদা, দু’টি লম্বা লদা, দু’টি বল্লম, তিনটি ছুরি, একটি ভারতীয় মদের বোতল, দু’টি বাটন মোবাইল, দু’টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন।