গাজীপুরের শ্রীপুরে ধানের জামিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি অপসারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক কৃষক পরিবারের বাবা, মা ও ছেলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ মে) রাত ৯টায় শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের যোগীরসিট গ্রামের গুজারমোড়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলো উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের যোগীরসিট গ্রামের মৃত রুছমত আলীর ছেলে কৃষক মোছলেম উদ্দিন (৫৫), তার স্ত্রী ফেরদৌসি খাতুন (৫২) এবং ছেলে নাজমুল হক (৩৫)। গুরুতর আহত কৃষক মোছলেম উদ্দিন এবং তার ছেলে নাজমুল হককে রাতেই স্বজনেরা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতাল এবং ফেরদৌসি খাতুনকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। মমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনায় শুক্রবার (২ মে) দুপুরে কৃষক মোছলেম উদ্দিনের ছোট ভাই হারিছ উদ্দিন (৫২) চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন- উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের যোগীরসিট গ্রামের স্বপন মিয়ার ছেলে আল আমিন (১৯), বাবুল মিয়ার ছেলে রাকিব (২৫) এবং ফেরদৌস মিয়া (১৮), মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে ফারুক মিয়া (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাশাপাশি জমির মালিক কৃষক মোসলেম উদ্দিনের সাথে ফারুক মিয়ার দীর্ঘদিন যাবত জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মোসলেম উদ্দিন আসামিদের বাড়ির পাশে তার ধানের জমিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি জামি থেকে অপসারণ করতে যায়। এসময় ফারুক মিয়া তাকে জমির পানি অপসারণে বাধা দেয়। এতে উভয়ের মাঝে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে কৃষক মোসলেম পানি অপসারণ না করে বাড়িতে ফিরে আসে। এ ঘটনার জেরে এদিন রাত ৯টায় আসামিরা কৃষকের ছেলে নাজমুল হককে বাড়ির দক্ষিণ পাশে ডেকে নেয়। কিছু বুঝে উঠার আগেই আসামিরা তাকে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের সাথে থাকা আসামি আল আমিন ধারালো ছুরি দিয়ে নাজমুল হকের পেটে আঘাত করে।
তার চিৎকারে বাবা কৃষক মোসলেম উদ্দিন ও মা ফেরদৌসি খাতুন ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আসামি ফেরদৌস মিয়ার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে মোসলেম উদ্দিনের পেটের ডান পাশে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। তারা ফেরদৌসি খাতুনকে আঘাত করার সময় ফেরাতে গেলে তার দুই হাত কেটে যায়। তাদের চিৎকারে আশপাশের বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে আসামিরা প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। স্বজনরা তাদেরকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।
কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোমেনুল কাদের জানান, ‘মোসলেম উদ্দিনের জমি উঁচু হওয়ায় তার জমির পানি পাশের জমিতে গিয়ে পড়ে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। এদিন রাত ৯টার দিকে অভিযুক্তরা মোসলেম উদ্দিনের ছেলে নাজমুল হককে বাড়ি থেকে ডেকে বের করে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে আল আমিন ধারালো ছুরি দিয়ে নাজমুলের পেটে আঘাত করলে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজমুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
শ্রীপুর থানার ওসি জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো সুইচ গিয়ার ছুরি উদ্ধার করেছে। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। এ ঘটনায় একটি মামলা রুজু হয়েছে।’