ঘুরে দাঁড়ানোর পুরো চেষ্টাই করল ফ্রান্স, চেষ্টা করল প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য গল্প লেখার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরে উঠল না। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই উপহার দিলেও মেনে নিতে হয়েছে হার, ৯ গোলের থ্রিলারে শেষ হাসি হাসলো স্পেন।
ফুটবলের অন্যতম দুই পরাশক্তির লড়াই, লক্ষ্য নেশন্স লিগের ফাইনালে ওঠার। রোমাঞ্চের আভাস ছিল পুরোটাই। হলোও তাই, সময়ের সাথে সাথে ম্যাচ জমে ক্ষীর। যেখানে ৫-৪ গোলে জয় স্পেনের।
অথচ ম্যাচের বয়স যখন ৭৮ মিনিট, ৫-১ গোলে তখনো এগিয়ে স্পেন। গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্সকে নাস্তানাবুদ করে বড় জয়ের স্বপ্নে বিভোর লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। কিন্তু শেষ ১০ মিনিটে বদলে যায় ঘটনা।
৮০ মিনিটের পর যেন সব হিসাব-নিকাশে রোমাঞ্চ আনে ফ্রান্স। ৪ গোলে পিছিয়ে থাকা দলটি মুহূর্তেই স্কোরলাইন ৫-৪ করে ফেলে। তবে শেষ পর্যন্ত সমতাসূচক গোলটি আর পাওয়া হয়নি। ওঠা হলো না ফাইনালেও।
এমএইচপি অ্যারেনায় বৃহস্পতিবার আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে শুরু থেকে জমে ওঠে লড়াই। সপ্তম মিনিটেই প্রথম ভালো সুযোগ পান এমবাপ্পে। উসমান দেম্বেলের পাস থেকে বল পেয়ে শট নিলেও তার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন।
এরপর ঘুরে যায় মোড়, উল্টা ২৫ মিনিটের মাঝেই ২ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। ২২ মিনিটে গোলের খাতা খোলেন নিকো উইলিয়ামস। ইয়ামালের বাড়ানো বল ওইয়ারসাবাল পাস করলে তা জালে জড়াতে ভুল করেননি।
৩ মিনিট পরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিকেল মেরিনো।ওইয়ারসাবালের দারুণ ফ্লিকে বল পেয়ে ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁকে পরাস্ত করেন তিনি। লিড ধরে রেখে বিরতিতে যায় স্পেন।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ১০ মিনিটের আরো ২ গোল পেয়ে যায় স্পেন। ৫৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন লামিনে ইয়ামাল। তিনি নিজেই ফ্রান্সের বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় স্পেন। যা থেকে গোল করেন তিনিই।
পরের মিনিটেই ফের গোল উল্লাসে মাতে স্পেন। এবার পেদ্রি লক্ষ্যভেদ করেন। নিকো উইলিয়ামসের পাস ধরে দলকে চতুর্থ গোল এনে দেন তিনি। ম্যাচের অর্ধেক পেরোতেই এক হালি গোল হজম করে বসে ফ্রান্স।
তবে যখন মনে হচ্ছিল সব শেষ, তখনই ঘুরে দাঁড়ায় ফ্রান্স। ৫৯তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে প্রথমে ব্যবধান কমান এমবাপ্পে। স্পেনের বক্সে পেদ্রো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পেয়েছিল ফ্রান্স।
৬৭তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে আবার ৪ গোলের লিড পুনরুদ্ধার করেন ইয়ামাল। ডান দিক থেকে পেদ্রো পোরোর পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শট নেন ১৭ বছর বয়সী উইঙ্গার, গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে জালে যায় বল।
৫-১ গোলের লিড নিয়ে এগিয়ে যেতে তারা বড় জয়ের দিকে। তবে ৭৯ মিনিটে হয় ছন্দপতন। আবার ব্যবধান কমান অভিষিক্ত হায়ান শের্কি। এমবাপ্পের পাস ধরে গোল করেন তিনি। পরের গোল আসে ৫ মিনিট পরই।
তবে নিজেরা এই গোল করতে পারেনি ফ্রান্স। ৮৪ মিনিটে প্রতিপক্ষের শট বক্সে ক্লিয়ারের চেষ্টায় নিজেদের জালেই বল পাঠান স্পেনের ডিফেন্ডার দানি ভিভিয়ান। স্কোর তখন ৫-৩।
আর যোগ করা সময়ের শেরকির সহায়তায় লক্ষ্যভেদ করেন রান্দাল কোলো মুয়ানি। তবে শেষ ২ মিনিটে আর কেনো গোল না আসায় সমতায় ফেরা হয়নি ফ্রান্সের। নেশন্স লিগের শেষ চার হতেই বিদায় নিতে হলো তাদের।
এদিকে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে জিতে টানা তৃতীয়বারের মতো উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে উঠল স্পেন। আগামী রোববার মিউনিখে শিরোপা লড়াইয়ে পর্তুগালের মুখোমুখি হবে ২০২৪ ইউরো জয়ীরা।