ব্রাজিল অধ্যায়ের শুরুটা সুখকর হলো না কার্লো আনচেলত্তির। অভিষেকে উপহার পেলেন বিবর্ণ ফুটবল। যদিও তার দল হারেনি, ইকুয়েডরের সাথে গোলশূন্য ড্র করে ছেড়েছে মাঠ।
আনচেলত্তির ছোঁয়ায় বদলায়নি ব্রাজিল ফুটবল। সাবেক এই রিয়াল কোচ হয়ে উঠতে পারেননি জাদুকর। মাঠে দেখা গেল সেই পুরোনো ব্রাজিলকেই। পরিকল্পনা বিহীন এলোমেলো ফুটবল খেলেছে তারা।
খুব আশা নিয়ে প্রথমবার কোনো জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন আনচেলত্তি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্লাব ফুটবলে প্রায় সব শিরোপা জেতা এই কোচ দায়িত্ব নেন ব্রাজিলের। আর সেলেসাওরা পায় প্রথম কোনো বিদেশী কোচ।
তবে শুরুটা স্মরণীয় হলো না কারো। কার্লো আনচেলত্তিকে ডাগআউটে পেয়েও জরাজীর্ণ ফুটবলেই আটকে থাকল তারা। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ১৫ রাউন্ডে ম্যাচে ইকুয়েডরের সাথে পেরে ওঠেনি সেলেসাওরা।
শুক্রবার ভোরে খেলতে নেমে বল দখল, সুযোগ তৈরি, গোলের জন্য শট ও লক্ষ্যে রাখা- প্রতিটি সূচকেই তারা বেশ পিছিয়ে ছিল ইকুয়েডরের চেয়ে। প্রায় ৪৮ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে মাত্র ২ শট লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা।
শুরুতে অবশ্য এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিলই, ২২তম মিনিটে ভিনিসিউস জুনিয়রের শট এগিয়ে এসে ঠেকান স্বাগতিক গোলরক্ষব গানসালো ভাইয়ে। ৩৩তম মিনিটে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি কাসিমেরো।
মাঝে সুযোগ পায় ইকুয়েডরও। ক্রসে বল পাঞ্চ করতে পোস্ট ছেড়ে এগিয়ে যান আলিসন বেকার। তবে তা মিস করেন তিনি, সুযোগ এসে স্বাগতিকদের সামনে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে ফাঁকা জালেও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে আরো কমে যায় খেলার গতি। প্রকট হয়ে ওঠে ব্রাজিলের মাঝ মাঠ আর আক্রমণভাগের সমন্বয়হীনতা। এলোমেলো কিছু আক্রমণ করলেও তাতে ছিল না কোনো পরিকল্পনা ছাপ।
বিপরীতে খানিকটা আক্রমণাত্মক ধাঁচে খেলতে থাকে ইকুয়েডর। ৭৬ মিনিটে একটি ভালো সুযোগও আসে। তবে পেরভিস এস্তুপিনানের আচমকা দূরপাল্লার শট ঝাঁপিয়ে ফেরান আলিসন।
বাকি সময়ে তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দলই। রসকষহীন একটা ম্যাচ দেখে ফুটবল বিশ্ব।
এই ম্যাচে জয় পেলে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পয়েন্ট তালিকায় ইকুয়েডরকে টপকে ২ নম্বরে উঠে যেত ব্রাজিল। তবে তা আর হলো না। ১৫ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে এখন তারা।
আর ২৪ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে ইকুয়েডর। অন্যদিকে দিনের অন্য ম্যাচে উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে উঠে এসেছে প্যারাগুয়ে। ২১ পয়েন্ট নিয়ে উরুগুয়ে আছে পাঁচে।