মেসি ফিরছেন, এমন খবর আগেই রটেছিল। তবে ছিলেন না প্রথম একাদশে। ফলে অপেক্ষা বাড়তে থাকে। অবশেষে প্রথমার্ধের পর মাঠে নামেন মেসি। তবে পাননি গোলের দেখা। তবে আর্জেন্টিনা জয় পেতে সমস্যা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে চিলির মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। যেখানে স্বাগতিকদের ১-০ গোলে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তারা। ম্যাচের প্রথমার্ধে একমাত্র গোলটি আসে হুলিয়ান আলভারেজের পা থেকে।
এই জয়ে এবারের বাছাই পর্বে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাই পর্বে শীর্ষ দল হিসেবে মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত করল লিওনেল স্ক্যালোনির শিষ্যরা। বিপরীতে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল চিলি।
বিশ্বকাপে জায়গা আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এই ম্যাচে কোচ লিওনেল স্ক্যলোনি দল নিয়ে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। লিওনেল মেসি, এনজো ফার্নান্দেজদের একাদশেই রাখেননি।
থিয়াগো আলমাদা, নিকো পাজ, জিওভান্নি সিমিওনে ও এজেকুয়েল প্যালাসিওসদের মতো তরুণদের এই ম্যাচে সুযোগ দেন তিনি। তবে সুযোগ পেয়ে সদ্ব্যবহার করতে ভুল করেনি তারা।
মেসিদের ছাড়া খেলতে নেমেও ছন্দেই ছিল আর্জেন্টিনা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিচ্ছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ-থিয়াগো আলমাদারা। যার ফলও আসে দ্রুত।
অবশ্য ঘরের মাঠে প্রথম ভালো সুযোগ পায় চিলি। তৃতীয় মিনিটে আলেক্সিস সানচেসের গতিময় শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
বিপরীতে ষোড়শ মিনিটে নিজেদের প্রথম ভালো সুযোগে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। থিয়াগো আলমাদার রক্ষণচেরা পাস ধরে আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে অনায়াসে জাল খুঁজে নেন হুলিয়ান আলভারেজ।
৩৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন জুলিয়ানো সিমিওনে। বল পাঠান বাহিরে। ৯ মিনিট পর নিকো পাসের শট ব্লকড হয় চিলির রক্ষণে। আর পরের মিনিটেউ আলমাদার শট ঝাঁপিয়ে ফেরান স্বাগতিক গোলরক্ষক ব্রায়ান কর্তেস।
তবে চিলি দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবলে আর্জেন্টিনাকে চেপে ধরে। তবে ভাঙতে পারেনি গোলরক্ষক মার্তিনেসের প্রতিরোধ। আলবিসেলেস্তাদের রক্ষণভাগের বেশ ভালো পরীক্ষাই নিয়েছে তারা।
৫৭তম মিনিটে পাসের জায়গায় বদলি নামেন লিওনেল মেসি। চোটের জন্য গত মার্চে উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় পাওয়া দুটি ম্যাচে ছিলেন না আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
৭৮তম মিনিটে ফ্রি কিকও পেয়ে যান মেসি। তবে কোনো বিপদ ঘটতে দেননি চিলি গোলরক্ষক। ৬ মিনিট পর তার রক্ষণচেরা পাসে ব্যবধান বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পান সিমিওনে। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে শূন্য জালে বল পাঠাতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড।
বাকি সময়ে জাল অক্ষত রেখে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। টানা চার জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছে তারা৷ ১৫ ম্যাচ শেষে ১১ জয় ও ১ ড্রয়ে আর্জেন্টিনার সংগ্রহ ৩৪ পয়েন্ট।