কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্তের হ্যাটট্রিকেও হারলো রিয়াল মাদ্রিদ। হ্যাটট্রিক করেও দলকে জেতাতে পারলেন না উদীয়মান এই ফরোয়ার্ড। রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্সের পরও বিষণ্ন মনে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদকে। ফের এল ক্লাসিকোতে লজ্জার হার রিয়ালের।
রোববার (১১ মে) এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার কাছে ৪-৩ গোলে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ে শিরোপার খুব কাছে পৌঁছে গেছে ইয়ামালের বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়ন হতে এখন কেবল বাকি আনুষ্ঠানিকতা।
স্প্যানিশ সুপার কাপ, লা লিগা এবং কোপা দেল রের ফাইনাল মিলিয়ে এই মৌসুমে চার সাক্ষাতের চার বারই বার্সেলোনার কাছে হারল রিয়াল মাদ্রিদ।
এই হারে ট্রফি শূন্য থেকে মৌসুম শেষ করলো রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ সুপার কাপ, কোপা দেল রেতে এই বার্সার কাছেই শিরোপা হাতছাড়া করার পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও শেষ আট থেকে বেজেছে রিয়ালের বিদায় ঘণ্টা।
এমনিতেই এল ক্লাসিকোতে উত্তেজনার কমতি থাকেনা মোটেও, এবার সেই উত্তেজনার সাথে মিশে ছিল লা লিগার শিরোপা সমীকরণ। যেখানে সবচেয়ে বেশি চাপে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। হারলেই শেষ তাদের শিরোপা স্বপ্ন।
সেই লক্ষ্যে শুরু থেকেই বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল রিয়াল। মাত্র ১৪ মিনিটেই জোড়া গোল করে সমর্থকদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলে লস ব্লাঙ্কোজরা। জোড়া গোল করেন এমবাপ্পে। তাতে মনে হচ্ছিল একতরফা ম্যাচ হতে যাচ্ছে।
পঞ্চম মিনিটেই আসে প্রথম গোল। বল নিয়ে বার্সার ডি-বক্সে ঢুকে পড়া এমবাপ্পেকে ঠেকাতে গিয়ে ফেলে দেন গোলরক্ষক সেজনি। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পটকিক থেকে বল জালে পাঠান এমবাপ্পে।
১৪ মিনিটে রিয়ালের দ্বিতীয় গোল আসে ভিনিসিউস- এমবাপ্পের যুগলবন্দিতে। ইয়ামালের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে লম্বা করে বাড়ান বল পেয়ে ওপরে ওঠেন ভিনি। যা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বল জালে জড়ান এমবাপ্পে।
এই গোলেই ইতিহাস গড়েন এমবাপ্পে। যা চলতি মৌসুমে রিয়ালের জার্সিতে ৫৩ ম্যাচে তার ৩৯তম গোল। অভিষেক মৌসুমে রিয়ালের হয়ে এতো গোল করতে পারেননি কেউই।
এরপর অবশ্য বদলে যেতে থাকে ম্যাচের দৃশ্যপট। মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বার্সা। ঘরের চেনা মাঠে দারুণ প্রত্যাবর্তন ঘটে তাদের। আক্রমণের পর আক্রমণে কাঁপিয়ে দেয় রিয়াল দুর্গ।
থিবো কোর্তায়ার দৃঢ়তায় একাধিকবার বেঁচে যাওয়ার পরও অবশ্য শেষরক্ষা হয়নি। বার্সেলোনার হয়ে ১৯ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন এরিক গার্সিয়া। কর্নার থেকে বল পেয়ে হেডে জালে জড়ান তিনি।
ব্যবধান ২–১ করার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে বার্সা। সুবাদে মাত্র ৩২ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরে তারা। তরেসের থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে বাঁকানো ট্রেডমার্ক শটে গোল করেন ইয়ামাল।
এই গোলের রেশ কাটার আগেই আসে তৃতীয় গোল। এবার আঘাত হানেন রাফিনিয়া। পেদ্রির লম্বা করে পাঠানো বল ধরে বাঁ পায়ের শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন। উল্লাসে মেতে উঠে গোটা বার্সার ডেরা।
৪৫ মিনিটে ফের গোল করেন রাফিনিয়া। ফেরান তোরেসের সাথে বল দেওয়া-নেওয়া করে জালে পাঠান তিনি। ৪-২ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।
বিরতির পর দ্বিতীয় গোল পেয়েছিলেন ইয়ামালও। কিন্তু তার গোল বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকে রিয়াল । বার্সার ডেরায় বেশ কয়েকবার আক্রমণ করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা।
অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সেই গোলটি আসে ম্যাচের ৭০ মিনিটে। দারুণ এক আক্রমণে ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন এমবাপ্পে। এই গোলেও সহায়তা করেন ভিনিসিউস জুনিয়র।
এরপর বাকি সময়টা আক্রমণ চালায় দুই দলই। জমে উঠে লড়াই। ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালাতে থাকে রিয়াল মাদ্রিদ। একাধিকবার কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত আর সমতা ফেরাতে পারেনি রিয়াল।
বিপরীতে আরো একবার জালের দেখা পেয়েছিল বার্সা। তবে গোল আসেনি। ফেরমিন লোপেজের গোল বাতিল হয় হ্যান্ডবলের কারণে। ফলে এল ক্লাসিকোতে রিয়াল হেরে যায় আরো একবার বার্সার কাছে।
এই জয়ে ৪৩ বছর আগের রেকর্ড ফিরিয়ে আনল বার্সেলোনা। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো এক ক্যালেন্ডারে চার ক্লাসিকো হারলো রিয়াল মাদ্রিদ।