হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবে আজ ১৩ এপ্রিল থেকে ওমরা পালনের জন্য নতুন করে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ওমরা যাত্রীদের প্রবেশ আজ থেকেই স্থগিত করা হয়েছে এবং এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে আগামী ১০ জুন পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে কোনো বিদেশী নাগরিক, জিসিসি দেশের নাগরিক, সৌদিতে বসবাসরত প্রবাসী বা অন্য কোনো ভিসাধারী ওমরার উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এই সিদ্ধান্ত হজ মৌসুমে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, তীর্থযাত্রীদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে নেয়া হয়েছে।
সৌদি আরব ঘোষণা করেছে যে ২০২৫ সালের হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে ২৯ এপ্রিল থেকে হজ ভিসা ছাড়া কোনো ব্যক্তি মক্কায় প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া ২৩ এপ্রিল থেকে বৈধ পারমিট ব্যতীত প্রবাসীদের মক্কায় প্রবেশও সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কেবলমাত্র তিন শ্রেণির ব্যক্তিদের মক্কায় প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে। তারা হলেন, যাদের মক্কায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত আবাস রয়েছে, বৈধ হজ পারমিটধারীরা এবং যারা পবিত্র স্থানসমূহে কাজ করার জন্য অনুমোদিত।
প্রয়োজনীয় অনুমতি ‘আবশের ইন্ডিভিজুয়াল প্ল্যাটফর্ম’ অথবা ‘মুকিম পোর্টাল’-এর মাধ্যমে ইলেকট্রনিকভাবে জমা দেয়া যাবে।
এই পদক্ষেপ হজ মৌসুমকে সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। শনিবার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের হজ মৌসুমকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট সর্বশেষ নিয়মাবলি ঘোষণা করেছে।
ঘোষণায় আরো বলা হয়, বিদেশি হজযাত্রীদের সৌদি আরব ত্যাগ করার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ এপ্রিল।
প্রবাসীদের জন্য হজ পারমিট গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা কার্যকর হবে ২৩ এপ্রিল থেকে। বৈধ হজ পারমিট ব্যতীত মক্কায় প্রবেশের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজ স্থানে ফেরত পাঠানো হবে।
এছাড়া, ‘নুসুক’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওমরা পারমিট প্রদান ২৯ এপ্রিল থেকে স্থগিত করা হবে। এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে ১০ জুন পর্যন্ত। এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে সৌদি নাগরিক, জিসিসি দেশগুলোর নাগরিক, সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী এবং অন্যান্য ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেও।
মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, ২৯ এপ্রিল থেকে শুধুমাত্র হজ ভিসাধারীদেরই মক্কায় প্রবেশ বা সেখানে অবস্থানের অনুমতি দেয়া হবে। এই নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সকল ব্যক্তি, হজ সংস্থা এবং হজসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে হজযাত্রার পবিত্রতা এবং নিরাপত্তা রক্ষা করা যায়।
সূত্র : সৌদি গেজেট