কৃষক বাঁচাতে খাল খননের বিকল্প নেই : পানিসম্পদ মন্ত্রী

Printed Edition

চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রতিনিধি

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (এ্যানী) বলেছেন, দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ায় শুধু চুয়াডাঙ্গা নয়, সারা দেশে সেচব্যবস্থায় ঘাটতি ও জলাবদ্ধতা বেড়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। কারণ বিগত সরকারের আমলে আমরা দেখেছি সেই পুরনো খালগুলো আর খাল নেই। সেই খালগুলো তারা অনেককে লিজ দিয়েছেন আবার অনেককে আবাদ করার অধিকার দিয়েছেন। খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল বেলা ২টায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ইছেরদাড়ী মোড়ে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। তলদেশের গড় প্রশস্থতা ৭ মিটার ও গড় গভিরতা ১ দশমিক ৫ মিটার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি উপকৃত হবেন ৫ হাজার ২০০ মানুষ।

পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপলব্ধি করতে পেরেছেন বাংলাদেশকে রক্ষা এবং কৃষককে যদি বাঁচাতে হয় তাহলে খাল খনন এবং পুনরুদ্ধার ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি একটি বিপ্লব ছিল। এই বিপ্লবটি সমাপ্ত হয়নি, যদি এটি জিয়াউর রহমানের চিন্তাভাবনা অনুযায়ী সমাপ্ত হতো তাহলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ অব্যাহত থাকতো। খাল খননের অসমাপ্ত কাজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমাপ্ত হবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিলেন আমরা ক্ষমতায় গেলে সারা দেশে নদী, খাল, জলাশয় খনন পুনঃখনন এবং পুনরুদ্ধার করা হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পরই কৃষকদের কল্যাণে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যার পরিমাণ সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মূল উদ্দেশ্য কৃষকদের উৎসাহ দেয়া। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ, কৃষিই দেশের অর্থনীতির চাবিকাঠি। সরকার কৃষকদের সহায়তা করতে চায়, যাতে তারা ফসল উৎপাদন বাড়াতে পারেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক লুৎফন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: শরীফুজ্জামান শরীফ, চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক কর্মকর্তাসহ জেলা উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতারা।

মন্ত্রী চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজে পৌঁছালে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো: রুহুল আমিন তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন।