পে-স্কেলের দাবিতে যমুনায় যাওয়ার চেষ্টা, পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ২৫
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামোর (পে-স্কেল) গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের এক দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে সরকারি কর্মচারীদের যাওয়ার চেষ্টায় বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৯ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, বাকি ছয়জন এখনো চিকিৎসারত আছেন। এ সময় পুলিশ সেখান থেকে কয়েকজন আন্দেলনকারীকে আটক করে। এর আগে গতকাল রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন সরকারি কর্মচারীরা। পরে তারা মিছিল নিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে যমুনা অভিমুখে রওনা হন। পরে যমুনার সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল ছুড়লে অন্তত ২৫ জন আহত হন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, বর্তমান সরকারকেই পে-স্কেল ঘোষণা করতে হবে। যেহেতু কমিশন তাদের সব রিপোর্ট জমা দিয়েছে এখন শুধু গেজেট আকারে প্রকাশ করলে তা কার্যকর হবে। নির্বাচিত সরকার এলে এটির বাস্তবায়নে বিলম্ব হবে।
আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা সহকর্মী মো: কালাম হাওলাদার জানান, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে একটি মিছিল কর্মসূচি ছিল। মিছিল শাহবাগ অতিক্রম করার আগ মুহূর্তে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের অভিযানে আমাদের সহকর্মীরা আহত হয়েছেন।
শাহাদাৎ নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, আমরা পুলিশি হামলার নিন্দা জানাই। আমাদের আন্দোলন ন্যায্য। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে কমিশন সবকিছু পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে, এখন শুধু গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা।
গেজেট প্রকাশ নিয়ে বর্তমান সরকার নানা টালবাহনা করছে। কয়েকদিন পর নির্বাচন। নির্বাচনের পর যে সরকার আসবে তারা এটি দীর্ঘায়িত করবে। যে পুলিশ হামলা করল, তারাও এই পে-স্কেলের সুবিধাভোগী হবে। আমরা শুধু নিজেদের জন্য নয়, সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যই আন্দোলন করছি।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, আন্দোলনকারীরা যমুনার সামনে পৌঁছলে তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। আন্দোলনরতদের সাথে একাধিকবার কথা বলা হয়। কিন্তু তারা সেখান থেকে না সরতে চাইলে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও একপর্যায়ে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা প্রাথমিকভাবে কয়েকজন আটকও করেছি। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার নিরাপত্তায় কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।