সর্বস্তরের মানুষের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়
দেশবাসীর সমর্থন ও দোয়া চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর গণমাধ্যমের কাছে এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন তিনি।
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঈদে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে আমরা রহমত চাই যেন আল্লাহ আমাদেরকে সেই রহমত দেন যাতে করে আমরা মানুষের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে পারি। এই ঈদের দিনে দেশবাসীর কাছে আমি দোয়া চাই। একই সাথে দেশবাসীর কাছে অনুরোধ জানাবো যে, আপনাদের সহযোগিতা যদি থাকে ইনশাআল্লাহ আপনাদের এই নির্বাচিত সরকার আপনাদের চাওয়া অনুযায়ী দেশ গঠনের কাজে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাবে। ১৯৭১ সালের বীর শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ ও গণতন্ত্রের যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষ ইনশাল্লাহ ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন- এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, বহু বছর পর আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ইচ্ছায়, বাংলাদেশের মানুষের দোয়ায় আমি এবং আমার পরিবার দেশের মাটিতে দেশের মানুষের সাথে ঈদ পালন করতে সক্ষম হয়েছি, তার জন্য আমি প্রথমেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা: জুবাইদা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রবেশ করে প্রথমে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ কমিশনাররা, তিন বাহিনী প্রধান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিজিবি প্রধান, পুলিশ প্রধানসহ সরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, একাধিক মন্ত্রী ও দলের সিনিয়র নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট নাগরিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রীর পাশে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন। যমুনায় প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানাতে পেশাজীবী শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও শ্রমজীবী মানুষজনও আসেন। একনজর প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে মানুষের ঢল নামে যমুনায়।
সর্বস্তরের মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শামিলা রহমান, তার দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারেক রহমান মা-বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ করে মুনাজাত করেন। পরে বিএনপির পক্ষ থেকে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ টি এম শামসুল ইসলাম প্রমূখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে আইএমএফ এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালকের সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অফিস জানায়, গতকাল ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন। এ সময় অর্থ এবং পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের পর কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন অর্থমন্ত্রীর সাথে এক বৈঠকে বসেন। এ বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় বাড়বে এবং এর প্রভাব আসন্ন জাতীয় বাজেটেও পড়তে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে আইএমএফের সাথে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়, কিন্তু এর প্রভাব আমরা ভোগ করছি। তাই অর্থনীতিকে সামাল দিতে আমাদের পরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে। আইএমএফের ঋণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংস্থাটির শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে এবং দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী জুলাইয়ের পরবর্তী রিভিউতে বিষয়টি আরো বিস্তারিতভাবে আলোচনা হবে। এর মধ্যে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের কথা রয়েছে।
আমীর খসরু আরো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজার এবং কর-জিডিপি অনুপাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব খাতে সংস্কার ও নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে ডিরেগুলেশন, ব্যবসা সহজীকরণ এবং ব্যবসার ব্যয় কমানোর বিষয়ে সরকার কাজ করছে। এসব উদ্যোগের প্রতিফলন আসন্ন বাজেটে দেখা যাবে। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সঙ্কটে সবাইকে সংযমী হতে হবে এবং সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। সম্মিলিতভাবে আমরা এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারব।