বকশীগঞ্জে রেলিংবিহীন সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

Printed Edition
bangla-2
পৌরসভার মেঘেরচর এলাকার খালের ওপর রেলিংবিহীন সেতু : নয়া দিগন্ত

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেষেরচর এলাকায় খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে রেলিংবিহীন ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। দুই পাশের রেলিং ভেঙে যাওয়ায় এটি এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই সেতু পার হচ্ছেন সাত গ্রামের প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার মানুষ। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) প্রায় ২৮ বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করে। তবে নির্মাণের প্রায় ১৫ বছর পরই সেতুর দুই পাশের রেলিং ভেঙে পড়ে। বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ কম হওয়ায় এক সাথে দুটি অটোভ্যান চলাচল করতে পারে না। ফলে প্রতিনিয়ত যানবাহন ও পথচারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, রেলিং না থাকায় সেতু পারাপারে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মেষেরচর পূর্বপাড়া, মেষেরচর পশ্চিমপাড়া, বড়ইতারি, সর্দারপাড়া, ঝালরচরসহ আশপাশের সাত গ্রামের মানুষ অটোরিকশা, ভ্যান, বাইসাইকেল ও হেঁটে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে সেতুটি হয়ে ওঠে আরো বিপজ্জনক।

স্থানীয় বাসিন্দা সোলাইমান জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে রেলিং ভেঙে যাওয়ার পর থেকে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ২০২৪ সালে একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান উল্টে এক নারীর মৃত্যু হয়। ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, গত সপ্তাহে রেলিং না থাকায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় গরু সেতু থেকে পড়ে মারা গেছে। এর আগেও একইভাবে আরো দুটি গরু মারা যায়।

স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে সেতু পার হতে হয়। বৃদ্ধ, শিশু ও নারীদের চলাচল সবচেয়ে বেশি কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মাঝখানের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়রা কাঠ ফেলে কোনো রকমে পারাপারের ব্যবস্থা করেছেন।

মেষেরচর এলাকার পান ব্যবসায়ী আসলাম হোসেন বলেন, দিনের বেলা কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও রাতে সেতু পার হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত সংস্কার ছাড়া এ দুর্ভোগের শেষ নেই।

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী শামছুল হক জানান, সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য জামালপুর নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।