ট্রু উইকেটেই ফিরবে আত্মবিশ^াস : মিরাজ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রায় পাঁচ মাস পর ওয়ানডে খেলতে নামছে বাংলাদেশ দল। গত বছর অক্টোবরের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-১-এ সিরিজ জিতেছে স্বাগতিক টাইগাররা। আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বেলা সোয়া ২টায় শাহিন শাহ আফ্রিদির পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে মাঠে নামছে মিরাজ বাহিনী।

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ট্রু উইকেট ও স্পোর্টিং উইকেটে খেলার ওপর জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের পর এবার ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও জানালেন, বিশ্বকাপের আগে ব্যাটারদের রান করার আত্মবিশ্বাস তৈরি করে দিতে চান। পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। এই সিরিজের তিনটি ভেনুই মিরপুরে। যদিও এবার মিরপুরে স্পোর্টিং উইকেটেরই আশ্বাস দেয়া হয়েছে। পাকিস্তান দলও উইকেট দেখে সন্তুষ্ট।

মিরাজ বলেন, ‘আমরা অবশ্যই ট্রু উইকেটে খেলব। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে যেটা করেছি এটি প্রত্যেক দলই নেয়, হোম এডভান্টেজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনে দুর্বল তাই চেষ্টা করেছি এডভান্টেজ নেয়ার। এখন চেষ্টা করব ট্রু উইকেটে খেলার, ব্যাটাররা যেন আত্মবিশ্বাসের সাথে রান পায়।’

বিশ্বকাপ হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। আইসিসি ইভেন্টে স্পোর্টিং উইকেট থাকে। তার ওপর দক্ষিণ আফ্রিকা এমনিতেই পেস বোলিংবান্ধব। মিরাজ বলেন, ‘বিশ্বকাপে অবশ্যই ভালো উইকেট থাকে। এখন থেকেই অভ্যাস শুরু করতে চাচ্ছি। ২৭ এর আগে অনেক ওয়ানডে আছে, যদি বেশির ভাগ ম্যাচ ট্রু উইকেটে খেলতে পারি ভালো অভিজ্ঞতা হবে।’

হোম এডভান্টেজে দোষের কিছু দেখেন না অধিনায়ক, ‘একই সাথে মনে রাখতে হবে আমাদের কোয়ালিফাইও করতে হবে। যাদের বিপক্ষে হোম কন্ডিশন নিতে পারি তখন ওই এডভান্টেজ নেয়ার চেষ্টা করব। এটাও মাথায় রাখতে হবে বেশির ভাগ ম্যাচ যেন ট্রু ও ভালো উইকেটে খেলতে পারি।’

নিজের জন্য খেলেন মিরাজ

দলের চেয়ে নিজের ব্যক্তিগত অর্জনের দিকেই বেশি মনোযোগ মেহেদী হাসান মিরাজের। দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে এ অভিযোগ বেশ পুরনো। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর ঠিক আগে সংবাদ সম্মেলনেও এমন প্রশ্ন উঠে এলো ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের দিকে। তবে এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মিরাজের স্পষ্ট বার্তা, নিজের রেকর্ডের জন্য নয়, বরং দলের প্রয়োজনেই খেলেন তিনি।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নন মিরাজ। নিজের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বাস্তবতার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে মোটেই উদ্বিগ্ন নই। সবশেষ বিশ্বকাপের পর আমরা মনে হয় ১৫টির মতো ওয়ানডে খেলেছি এবং ম্যাচগুলোর মাঝে বেশ বিরতিও ছিল। আমার প্রতি সবার যে রকম প্রত্যাশা, আমি অনেক ম্যাচ জেতাব, হয়তো সেটা হচ্ছে না। পারফরম্যান্স এভারেজ হচ্ছে, কিন্তু অবশ্যই চেষ্টা করব যেন দলের জন্য ম্যাচ জেতাতে পারি।’

সাতে ব্যাট করবেন মিরাজ

দলের প্রয়োজনে যেকোনো পজিশনে খেলতে প্রস্তুত এই অলরাউন্ডার। নিজের চেয়ে দলের ভালো করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি। মিরাজ বলেন, ‘আমি নিজেকে নিয়ে কখনো ভাবি না। সব সময় চেষ্টা করি দলের প্রয়োজনে যতটা সম্ভব ভালো খেলা যায় এবং দলকে কীভাবে জেতানো যায়। আমার অগ্রাধিকার সব সময় দলের ভালো করার দিকে।’

নিজের অলরাউন্ড ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি যোগ করেন, ‘আমার পারফরম্যান্সও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটিং-বোলিং দুই জায়গাতেই আমি আমার ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছি। আমি যে পজিশনে ব্যাটিং ও বোলিং করি, সেটা দলের জন্য সহায়ক হয়। অবশ্যই আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে পারফর্ম করার এবং দলকে একটি ভালো জায়গায় নেয়ার চেষ্টা করব।’

ক্যারিয়ারের শুরুতে টপ অর্ডারে খেললেও এখন ব্যাটিংয়ে ৭ নম্বরেই নিজেকে থিতু করতে চান মিরাজ। এর পেছনের যৌক্তিক কারণ হিসেবে তিনি লোয়ার অর্ডারে বোলারদের নিয়ে খেলার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। ‘আমি যেহেতু ৮-৯ বছর একই পজিশনে (৮ নম্বরে) খেলেছি, তাই এখানে আমার একটা ভালো অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। এই পজিশনে এমন অনেক ইনিংস আছে, বোলারদের সাথে অনেক ম্যাচ লিড দিয়েছি এবং ম্যাচ জিতিয়েছি। তাই আমি চিন্তা করেছি, যেহেতু বোলারদের সাথে খেলার অভিজ্ঞতা আছে, আমি যদি সাত নম্বরে ব্যাটিং করি, তবে এটি দলের জন্য ভালো হবে। কারণ টপ অর্ডারেও আমি অনেক ব্যাটিং করেছি, হয়তো রানও পেয়েছি; কিন্তু দল জেতেনি। তাই মনে করি, ৭ নম্বর পজিশনটাই আমার জন্য সবচেয়ে ভালো।’

অধিনায়ককে দিতে হবে লম্বা সময়

পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে অনেক আলোচনাই বিশ্বকাপকেন্দ্রিক। প্রথমত বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিশ্চিত করার ব্যাপার, দ্বিতীয়ত বিশ্বকাপ ঘিরে দল তৈরি করার তাগিদ। তবে অধিনায়ক হিসেবে মিরাজ কতটা শক্ত অবস্থানে, তা নিয়ে আছে সংশয়। কারণ, বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনি অধিনায়ক থাকবেন কি না, সেই নিশ্চয়তা নেই তার নিজের কাছেও।

গত বছর নাজমুল হোসেন শান্তকে সরিয়ে হুট করেই ওয়ানডে অধিনায়ক করা হয় মিরাজকে। তখন তার মেয়াদ বেঁধে দেয়া হয় এক বছর। পাকিস্তান সিরিজের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ পর্যন্ত তার মেয়াদ। এরপর মিরাজ অধিনায়ক থাকবেন কি না, সেটি এখন বড় প্রশ্ন।

আগামী জুনে অধিনায়ক হিসেবে এক বছরের মেয়াদ পূর্ণ হবে মিরাজের। এরপর আবারো তাকে অধিনায়ক রাখা হবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। মিরাজ বিষয়টি বোর্ডের হাতেই ছাড়ছেন। তবে অনুরোধ করলেন, অধিনায়ক যে-ই হোক তাকে যেন সময় দেয়া হয়।

২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেই ভাবনা থেকেই মিরাজকে ওয়ানডে অধিনায়ক করা হয়। শান্তকে সরিয়ে মিরাজকে দায়িত্ব দেয়া অনেকেই ইতিবাচকভাবে নেননি। তার ওপর মিরাজের ফর্মও এখন সন্তোষজনক নয়। মিরাজ বলেন, ‘দলের প্রয়োজনে একজন ক্যাপ্টেন থাকবে। যাকেই দেয়া হোক সময় দিলে জিনিসটা সুন্দরভাবে তৈরি করা যায়। এটা সিদ্ধান্ত নেবে বোর্ড। যতদিনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে চেষ্টা করব দলকে ভালো অবস্থানে নেয়ার জন্য।’

মিরাজ অবশ্য ভবিষ্যতে ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী, ‘প্রথম দুই সিরিজ ভালো হয়নি, হেরে গেছি। সর্বশেষ সিরিজ কিন্তু জিতেছি। এই সিরিজও ইম্পরট্যান্ট। শুধু আমার জন্য না, দলের জন্য, বাংলাদেশের জন্য। বিশ্বকাপে যেই অধিনায়ক থাকুক ফার্স্ট প্রায়োরিটি বাংলাদেশ। এই সিরিজ দিয়ে চেষ্টা থাকবে ওয়ানডে ফরম্যাটে ভালোভাবে কামব্যাক করার।’