টানা ছুটিতে পর্যটকের ভিড়ে উৎসবমুখর শ্রীমঙ্গল
Printed Edition
এম এ রকিব শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)
চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল টানা তিন দিনের ছুটিতে পরিণত হয়েছে উৎসবের নগরীতে। বড়দিনের ছুটি, শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় একসাথে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে আসছেন সবুজে ঘেরা এই জনপদে। এর প্রভাব পড়েছে পাশের উপজেলা কমলগঞ্জের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানেও।
শ্রীমঙ্গলের শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট বর্তমানে পর্যটকে পরিপূর্ণ। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অধিকাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময়ের মন্দাভাব কাটিয়ে পর্যটকের ঢলে আবারো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, চা পাতা, মণিপুরি কাপড় ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়। শীতের হালকা কুয়াশা আর হিমেল বাতাস উপেক্ষা করেই পর্যটকেরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মণিপুরি পল্লী, বাইক্কা বিল, রাধানগর, চা কন্যা ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। শনিবার সকালে শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা নেমে আসে ১১ ডিগ্রির কাছাকাছি। তবুও ছাদখোলা জিপ ‘চাঁদের গাড়ি’তে চড়ে পর্যটকদের হইহুল্লোড় চোখে পড়েছে সর্বত্র।
শুক্র ও শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, ভানুগাছ সড়কসংলগ্ন চা বাগান এলাকায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রাইভেটকার ও বাস সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে আসা পর্যটকেরা প্রকৃতির সাথে মিশে আনন্দে মেতে উঠছেন, ছবি তুলছেন, স্থানীয় খাবার ও হস্তশিল্প কিনছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে আসা পর্যটক ও সাংবাদিক জালাল উদ্দিন মনির বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলের প্রকৃতি বারবার টানে। চা বাগানের বিস্তীর্ণ সবুজ আর পরিবেশ মনকে শান্ত করে।’ তবে তিনি অভিযোগ করেন, পর্যটক বাড়ার সুযোগে কিছু চাঁদের গাড়ির চালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন। ট্যুর গাইড সুলেমান আহমেদ বলেন, ‘ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে প্রতিটি ছুটির দিনে পর্যটকের চাপ অনেক। চাহিদা অনুযায়ী রুম দিতে পারছি না। বড়দিনের ছুটিতে দেশী পর্যটকের পাশাপাশি কিছু বিদেশী পর্যটকও এসেছেন।’ বালিশিরা রিসোর্টের পরিচালক রাসেল আহমেদ জানান, টানা তিন দিনের ছুটিতে তাদের রিসোর্ট সম্পূর্ণ হাউজফুল ছিল এবং জানুয়ারির জন্যও আগাম বুকিং নেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে পর্যটন সেবা সংস্থার যুগ্ম আহ্বায়ক মো: সেলিম আহমদ বলেন, দীর্ঘ মন্দার পর এমন পর্যটক প্রবাহ আশাব্যঞ্জক হলেও ছুটির পরবর্তী সময়ে বুকিং কিছুটা কম।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ওসি মো: কামরুল হাসান চৌধুরী। শ্রীমঙ্গল থানার ওসি মো: জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, চাঁদের গাড়ির অতিরিক্ত ভাড়া ও আচরণ নিয়ে পাওয়া অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘পর্যটকের আগমনে শ্রীমঙ্গল এখন উৎসবমুখর। কোনো ধরনের হয়রানির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’