হাতিয়ায় চর দখল নিয়ে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত বেড়ে ৬

Printed Edition

নোয়াখালী অফিস

নোয়াখালীর হাতিয়ার জাগলার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার সকালে সামছুদ্দিন ওরফে কোপা সামছু (৫৫) নামে আরো এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতের দিকে হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী জাগলার চরের জঙ্গল এলাকা থেকে সামছুদ্দিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে একই চর এলাকা থেকে পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।

নিহত সামছুদ্দিন হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং কোপা সামছু বাহিনীর প্রধান ছিলেন। এ ঘটনায় নিহত অন্যরা হলেন- আলাউদ্দিন বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিন, মোবারক হোসেন, আবুল কাশেম, হক সাব ও কামাল উদ্দিন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাগলার চরের জমি সরকারিভাবে এখনো কাউকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়নি। এই সুযোগে গত ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের কোপা সামছু বাহিনী চর এলাকার বেশ কিছু জমি বিক্রি করে। পরে সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনী ওই জমি দখলে নিতে তৎপর হয়ে ওঠে এবং আরো বেশি দামে জমি বিক্রি শুরু করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ আলাদাভাবে চর এলাকার জমি বিক্রির চেষ্টা চালাতে থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, চর দখলের সাথে জড়িত ডাকাত আলাউদ্দিন সুখচর ইউনিয়নের বেলায়েত হোসেন সেলিম, নিজাম মেম্বার ও নবীর ঘনিষ্ঠ। তারা কোপা সামছু বাহিনীকে চর এলাকা থেকে বিতাড়িত করতে আলাউদ্দিন বাহিনীর সাথে আঁতাত করে। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে জাগলার চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে কোপা সামছু ও আলাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে গিয়ে বন্দুকযুদ্ধ ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গোলাগুলির ঘটনায় দুই পক্ষের ছয়জন নিহত হন। বুধবার রাতে পাঁচজনের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সাইফুল আলম জানান, এ ঘটনায় নিহত সামছুদ্দিনের ছোট ভাই আবুল বাশার বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরো ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে তিনি জানান।