কিউইদের কোনো ছাড় নয়

Printed Edition
khela-1
মিনহাজুল আবেদিন নান্নু

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২০১০ ও ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের প্রথম সারির দল বাংলাদেশে এসে ধবলধোলাই হয়েছে। এবার ঘরের মাঠে আইপিএল, পিএসএলের কারণে প্রথম সারির ক্রিকেটারদের ছাড়াই বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিাজ খেলবে কিউইরা। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর মতে সফরকারিদের হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটের নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার এবারের আইপিএলে খেলবেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে। তার বদলে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজে নেতৃত্ব দেবেন কিউইদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ওয়ানডে ও টি-২০তে ১৬৩ ও ২৯ ম্যাচ খেলা টম লাথাম। স্যান্টনারের পাশাপাশি গ্লেন ফিলিপস, রাচীন রবীন্দ্ররা খেলবেন আইপিএলে। আর পিএসএলে ব্যস্ত ডেভন কনওয়ে, ড্যারেল মিচেলরা।

নান্নুর মতে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির দলের কাছেও হারতে পারে বাংলাদেশ। বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নান্নুর ভাষ্য, ‘নিউজিল্যান্ড যথেষ্ট ভালো দল এবং সব সংস্করণেই যেকোনো দলকে চ্যালেঞ্জিং অবস্থায় ফেলে। সে হিসেবে নিউজিল্যান্ড সিরিজকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। কারণ, ঘরের মাঠে খেলা ও আমাদের পয়েন্টগুলো প্রয়োজন।’

এ বছরের জানুয়ারি ভারত সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ প্রথম ম্যাচ হেরে শুরু করলেও নিউজিল্যান্ড সিরিজ জেতে ২-১ ব্যবধানে। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার পাওয়া মিচেল এবার বাংলাদেশ সিরিজে নেই। এমনকি সাত উইকেট পাওয়া ক্রিস্টিয়ান ক্লার্কও চোটে পড়ায় বাংলাদেশ সফরে আসতে পারছেন না। নিউজিল্যান্ড দল নিয়ে নান্নু বলেন, ‘তাদের নিয়মিত ক্রিকেটারদের বেশির ভাগই পরিবর্তন করে এনেছে। আমার মতে এই সিরিজকে হালকাভাবে নিলে তারা আমাদের বিপদে ফেলতে পারে।’

আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে সেরা নয়ে থাকা দল সরাসরি খেলবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ৯ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ৭৯। সবার ওপরে থাকা ভারতের রেটিং পয়েন্ট ১১৯। ১১৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নিউজিল্যান্ড। প্রথম সারিতে থাকা নিউজিল্যান্ডকে হারালে রেটিংয়ে স্বাভাবিকভাবেই উন্নতি হবে বাংলাদেশের। কিউইদের পরে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ খেলার কথা বাংলাদেশের।

১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ নান্নুর কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ, ‘আমার মনে হয় আমাদের সেরাটা সঠিক সময়ে দিতে হবে। এই সিরিজ থেকে অবশ্যই আমরা কিছু ইতিবাচক পারফরম্যান্স চাই যা আগামী সিরিজে কাজে লাগবে।’

সবশেষ মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতলেও টপ অর্ডার ভালো করেনি। তানজিদ হাসান তামিম দুর্দান্ত খেলেছেন। কিন্তু উদ্বোধনী জুটিতে তার সঙ্গী সাইফ হাসান তিন ম্যাচ মিলিয়ে করেন ৫২ রান। তা ছাড়া বেশির ভাগ সময় বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায় ৫০ পেরোনোর আগেই।

নান্নুর মতে ঘরোয়া ক্রিকেটের পাইপলাইন মজবুত থাকলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করবে বাংলাদেশ। ‘যেকোনো টপ অর্ডার বলুন, মিডল অর্ডার বলুন বা লোয়ার অর্ডার বলুন, খেলোয়াড়; কিন্তু তৈরি করতে হবে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে। এখানে আমাদের হাই পারফরম্যান্স ইউনিট আছে, ‘এ’ দলের টাইগার্স ইউনিট আছে। কোচদের দিয়ে নার্সিং করা হয়। কে কোন জায়গায় কোন পজিশনে কতটুকু ভালো করতে পারে, তখন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখতে হয়। উন্নতির জায়গা সেখানেই।’

নির্ভরযোগ্য পেস বোলিং অলরাউন্ডারের অভাব

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ এখনো দূরে। তবে প্রস্তুতির সময় খুব বেশি নয়- এই উপলব্ধি থেকেই দল গঠনের ভাবনা এখনই গুছিয়ে নিতে চাইছে বাংলাদেশ। ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের কন্ডিশন মাথায় রেখে নির্বাচকদের পরিকল্পনায় বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে পেস বোলিং। বাংলাদেশ দলে এখন পেস বোলারের অভাব নেই। বরং একাধিক মানসম্পন্ন পেসার থাকায় রোটেশন করেও শক্তি ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবু এই শক্তির মধ্যেই একটি ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে- একজন নির্ভরযোগ্য পেস বোলিং অলরাউন্ডারের অভাব।

জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সেই প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেছেন, ‘পেস বোলিং অলরাউন্ডার থাকলে আপনি ৩-৪ সিমার নিয়ে খেলতে পারেন। শেষদিকে তেমন ব্যাটারও থাকে না। তাই পেস বোলিং অলরাউন্ডার থাকা খুব জরুরি। এ মুহূর্তে রেডিমেড তেমন হাতে নেই। জুনিয়র সিলেক্টরের সাথে কথা বলছি, যদি ওখানে কেউ থাকে।’

বর্তমান পেস আক্রমণ নিয়ে আত্মবিশ্বাস আছে টিম ম্যানেজমেন্টের। চোট ও কাজের চাপ বিবেচনায় রেখেও বিকল্প বোলারদের মান নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন না নির্বাচকেরা। বাশার বলেন, ‘আমরা খুব ভাগ্যবান যে এখানে রোটেশন করলেও সমস্যা হয় না। এই ডিপার্টমেন্ট বেশ সমৃদ্ধ। হাসান মাহমুদ, তানজিম সাকিব বাইরে আছেন তারাও খুব ভালো বোলার। কম্পেয়ার করলে খুব বেশি পার্থক্য খুঁজে পাবেন না। নতুন প্রশ্ন- এই শক্তিকে কিভাবে আরো ভারসাম্যপূর্ণ করা যায়।