রাশিয়ার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছাড় চেয়েছে বাংলাদেশ : অর্থমন্ত্রী

Printed Edition
back-1
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদুত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসনে সাক্ষাৎ করেন : পিআইডি

বিশেষ সংবাদদাতা

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি বা অস্থায়ী ছাড় চেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের মতো বাংলাদেশকেও একই ধরনের সুযোগ দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলানগরে পরিকল্পনামন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিসটেনসেনের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো রাশিয়া থেকে কোনো তেল কিনতে পারে না। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে রাশিয়া থেকে তেল কিনছে ভারত। এই অনুমতি ভারতকে এক মাসের জন্য দেয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ভারতকে একটি অস্থায়ী ছাড় দিয়েছে। বাংলাদেশও একই ধরনের সুযোগ পেতে আগ্রহী। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরা হয়েছে এবং তারা এটি ওয়াশিংটনে পাঠাবে বলে জানিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এ ধরনের সুযোগ দেয়া হলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য সহায়ক হবে। এখন এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। আমীর খসরু বলেন, বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে আসে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য কোনো বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে এ বৈঠকে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাণিজ্যচুক্তি দুই দেশের বিষয় হওয়ায় এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক সঙ্ঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তার সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুদ্ধ স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি বা দীর্ঘস্থায়ী যা-ই হোক না কেন, সবধরনের পরিস্থিতি মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।