মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা, উৎকণ্ঠায় মিরসরাইয়ে হাজারো পরিবার

Printed Edition

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রবাসপ্রবণ উপজেলা মিরসরাইয়ে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার প্রবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের পরিবার-পরিজনের।

উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভার প্রায় প্রতিটি ঘরেই রয়েছেন প্রবাসী। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাইরেন, কঠোর নিরাপত্তা ও চলাচলে কড়াকড়িতে প্রবাসীরা যেমন অনিশ্চয়তায় আছেন, তেমনি দেশে থাকা স্বজনরা টিভি পর্দার খবরে আছেন উৎকন্ঠায়।

কুয়েত প্রবাসী জাহিদ চৌধুরী জানান, গত ৫ মার্চ মিসাইল হামলায় সন্দ্বীপের এক যুবক নিহত হওয়ার পর আতঙ্ক আরো বেড়েছে। মাঝেমধ্যেই গোলার শব্দে কেঁপে ওঠে ভবন। করেরহাট ইউনিয়নের আব্দুর রহিম জানান, তার দুই ছেলে কুয়েতের একটি বিমানঘাঁটির পাশে খামারে কাজ করেন। কয়েক দিন আগে তাদের খামারের পাশেই একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বারুদ আর গোলার গন্ধে সেখানে টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে।

একই উদ্বেগ কাতার প্রবাসী ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসাইনের। অনেক বিনিয়োগ করেও যুদ্ধের কারণে এখন লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, জানমালের নিরাপত্তাই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে আরমান হোসেন জানান, ড্রোনের খবরের পর থেকে দেশ থেকে মা-বাবা বারবার ফোন করে কান্নাকাটি করছেন।

উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা শাকিলা জান্নাত নিশাত জানান, সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে মিরসরাইয়ের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রবাসে রয়েছেন।