ফ্রান্সের স্থানীয় নির্বাচনে জায়গা করে নিচ্ছেন বাংলাদেশী

Printed Edition

মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন প্যারিস (ফ্রান্স) থেকে

ফ্রান্সের স্থানীয় রাজনীতিতে ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নাগরিকদের উপস্থিতি। বিশেষ করে আসন্ন পৌরসভা বা স্থানীয় নির্বাচনে বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা, শ্রমবাজার ও সামাজিক সংগঠনে সক্রিয় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীরা এখন মূলধারার রাজনীতিতেও নিজেদের জায়গা করে নিতে শুরু করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল রাজনৈতিক অংশ নেয়ার বিষয় নয়; বরং ফ্রান্সে বাংলাদেশী কমিউনিটির সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক সচেতনতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

ফ্রান্সে বাংলাদেশী অভিবাসনের ইতিহাস প্রায় চার দশকের। প্রথম দিকে যারা শ্রমবাজার বা ক্ষুদ্র ব্যবসার যুক্ত হয়ে এখানে বসতি গড়েছিলেন, তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এখন শিক্ষিত ও সামাজিকভাবে আরো সংগঠিত। ফলে স্থানীয় সমাজ ও রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

ইল-দ্য-ফ্রান্স অঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরে আগামী ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য পৌরসভা বা স্থানীয় নির্বাচনে বিভিন্ন পদে অর্ধডজনেরও বেশি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কেউ ডেপুটি মেয়র পদে, কেউ বা সিটি কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

তাদের মধ্যে বেশির ভাগই তরুণ। ফলে প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে এ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন ধরনের আগ্রহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, ফ্রান্সের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি কমিউনিটির রাজনৈতিক সচেতনতা ও সামাজিক অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে।

ফ্রান্সে বাংলাদেশীদের বড় একটি অংশ প্যারিস ও আশপাশের শহরগুলোতে বসবাস করেন। ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট, খুচরা বাণিজ্য এবং বিভিন্ন সেবাখাতে তাদের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন বা রাজনৈতিক কাঠামোয় বাংলাদেশীদের প্রতিনিধিত্ব ছিল খুবই সীমিত। ফলে শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান কিংবা প্রশাসনিক নানা জটিলতার বিষয়ে কমিউনিটির মতামত অনেক সময় যথাযথভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতি বদলাতেই এখন অনেক বাংলাদেশী তরুণ স্থানীয় রাজনীতিতে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাদের মতে, একজন কাউন্সিলর বা স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় সরাসরি ভূমিকা রাখা যায় এবং বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যেও সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব হয়।

ফ্রান্সের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে সাধারণত দেশটির নাগরিক হতে হয়। গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী অভিবাসী দেশটির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ফলে সেখানকার রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগও বেড়েছে। যারা আগে শুধু ভোটার ছিলেন, তাদের মধ্য থেকেই এখন অনেকেই প্রার্থী হচ্ছেন।