নাইজেরিয়ায় আইএস ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
হামলার কথা নিশ্চিত করলেও খ্রিষ্টানদের ওপর নিপীড়নের ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান নাইজেরিয়া সরকারের
Printed Edition
আলজাজিরা
নাইজেরিয়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আইএসআইএল (ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট) সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথভাবে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গতকাল শুক্রবারের এই অভিযানে একাধিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
এ দিকে নাইজেরিয়া সরকার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ট্রাম্পের খ্রিষ্টানদের ওপর নিপীড়নের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, দেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মুসলিম ও খ্রিষ্টান উভয় সম্প্রদায়কেই লক্ষ্যবস্তু করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে খ্রিষ্টানদের ওপর নিপীড়নের দাবি আসল নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করে না এবং নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তা উপেক্ষা করে।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল দীর্ঘ দিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও উগ্রবাদী হামলার কারণে অস্থিতিশীল। যদিও আইএসআইএল মূলত মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের শাখা বিস্তার করেছে। নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিমে আইএসআইএল-সংযুক্ত সন্ত্রাসীরা স্থানীয় গোষ্ঠীর সাথে মিলে হামলা চালাচ্ছিল।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও নাইজেরিয়ার বিমান বাহিনী যৌথভাবে এই হামলা পরিচালনা করে। লক্ষ্যবস্তু ছিল আইএসআইএলের প্রশিক্ষণ শিবির, অস্ত্রাগার ও যোগাযোগ কেন্দ্র। হামলার ফলে একাধিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অভিযান ছিল ‘সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক’, যাতে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতি না হয়। তবে স্বাধীন সূত্র থেকে হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরে আফ্রিকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা করে আসছে। বিশেষ করে সাহেল অঞ্চলে আল-কায়েদা ও আইএসআইএল-সংযুক্ত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনী গোয়েন্দা তথ্য, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকে। এই যৌথ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তারা স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক দুর্বল করতে চায়।
নাইজেরিয়ার সরকার বলেছে, এই অভিযান প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া সন্ত্রাস মোকাবেলা সম্ভব নয়। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো যৌথ পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, বিদেশী বাহিনীর উপস্থিতি নাইজেরিয়ার সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। কিছু মানবাধিকার সংগঠনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে বিমান হামলায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা শুধু নাইজেরিয়ার জন্য নয়, পুরো পশ্চিম আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আইএসআইএল ও অন্যান্য উগ্রবাদী গোষ্ঠী সীমান্ত পেরিয়ে কার্যক্রম চালায়। ফলে একটি দেশে সফল অভিযান অন্য দেশগুলোর জন্যও বার্তা বহন করে। নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আরো যৌথ অভিযান চালাতে প্রস্তুত। একই সাথে তারা স্থানীয় জনগণকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও সমর্থন বন্ধ হয়।