জ্বালানি বাঁচাতে পাকিস্তান-থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে হোম অফিস
Printed Edition
আলজাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া ও জ্বালানির দাম ওঠানামা করার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম সরকারি কর্মচারীদের হোম অফিস, অর্থাৎ বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। এ ছাড়াও তারা তাদের নাগরিকদের অন্যান্য জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কায় পাকিস্তানে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর সাশ্রয়ী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শহিবাজ শরিফ। সোমবার জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে তিনি আগামী দুই সপ্তাহ দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান সশরীরে না করে অনলাইনে করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জ্বালানি খরচ কমাতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের অর্ধেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাসা থেকে ‘হোম অফিস’ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অফিসগুলোতে বিদ্যুৎ ও তেলের ব্যবহার কমাতে সপ্তাহে অতিরিক্ত একদিন ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তান সরকার এই ব্যবস্থা নিল।
শাহবাজ শরিফ তার ভাষণে বলেন, পাকিস্তানের অর্থনীতি, কৃষি এবং পরিবহন ব্যবস্থা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। চলমান অস্থিরতায় সরবরাহ বিঘিœত হওয়ার ঝুঁকি থাকায় জ্বালানি বাঁচাতে এই পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়িতে তেলের বরাদ্দ কমানোর পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সরকারি অফিসে নতুন এসি, ফার্নিচার বা অন্যান্য বিলাসদ্রব্য কেনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাজেট সাশ্রয় করতে প্রধানমন্ত্রী নিজে এবং অন্য সব সরকারি কর্মকর্তার বিদেশ সফরেও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। পাকিস্তানের অর্থনীতিকে সম্ভাব্য ধস থেকে রক্ষা করতেই এই ‘কঠোর সিদ্ধান্ত’ নেয়া হয়েছে বলে ভাষণে উল্লেখ করা হয়। সরকারের এই নতুন নিয়মগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
তেমনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া ও জ্বালানির দাম ওঠানামা করার প্রেক্ষাপটে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম সরকারি কর্মচারীদের হোম অফিস, অর্থাৎ বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। এ ছাড়াও দেশ দু’টি তাদের নাগরিকদের অন্যান্য জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছে। থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভব হলে সরকারি কর্মচারীদের বাড়ি থেকে কাজ করার পদ্ধতিতে যেতে হবে। পাশাপাশি সরকারি অফিসগুলোকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এয়ার কন্ডিশনারের (এসি) তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর এড়িয়ে চলার আহ্বানও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেশী ভিয়েতনামে সরকার জ্বালানি সঙ্কট ঠেকাতে এবং অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে অনেক আমদানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক বাতিল করেছে। একই সাথে দেশটির সরকার কোম্পানিগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে, ‘যখনই সম্ভব’ কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ দিতে, যাতে জ্বালানির চাহিদা কমানো যায়। ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয় থেকেও জনগণকে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার সীমিত করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার, সাইকেল চালানো অথবা কারপুলিংয়ের মতো পদ্ধতি বেছে নিতে বলা হয়েছে।