জুলাই সনদ নিয়ে ছেড়ে কথা বলব না : ডা: শফিক
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
মানুষের অধিকারের পক্ষে, ন্যায়-ইনসাফ, দ্বীন, কালিমা, সততা, সত্য ও এলাকার মানুষের স্বার্থের পক্ষে সব সময় আপসহীন থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই সনদ আমাদের জাতীয় জীবনের অন্যতম অর্জন। কিন্তু সরকার তা বাস্তবায়ন না করে গণরায়ের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করছে। এ বিষয়ে আমরা কোনো আপস করব না; ছেড়ে কথা বলব না। জুলাই সনদ নিয়ে কোনো আপস করা হলে তা জাতি ও শহীদদের সাথে বেঈমানি করা করা হবে। শহীদদের আত্মা কষ্ট পারে। তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সবাইকে আপসহীন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর মিরপুরে একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের কাফরুল জোন আয়োজিত বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে এক শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, বিগত নির্বাচনে জাতি একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করেছিল। সে লক্ষ্যে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণরায়ও প্রদান করেছিল। দেশে ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু দুষ্ট লোকেরা আঁতাত করে জনগণের দেয়া রায় ছিনতাই করে নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, সংসদে আমাদেরকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। মহল বিশেষের মর্জি মতো না চললে ‘এ করা হবে; সে করা হবে’। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের মনে রাখা উচিত এসব প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেই বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছি। তাই এসবকে আমরা কোনো ভাবেই ভয় করি না।
তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকার সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, এলাকায় অনেক সমস্যা রয়েছে। তবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। রয়েছে দুষ্ট লোকের চক্রান্তও। প্রধানমন্ত্রী এ এলাকা উন্নয়নের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এজন্য একজন প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্বও দেয়া হয়েছে। আশা করছি সম্ভব স্বল্প সময়ের মধ্যেই এলাকার সমস্যার সমাধান হবে। তিনি এলাকার উন্নয়ন নিয়ে সব সময় সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসছে। সব ক্ষেত্রে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এটা সরকার গঠনের নির্বাচন নয় বরং উন্নয়নের নির্বাচন। আর উন্নয়ন যেখানে মধু থাকে সেখানে। মধু যেখানে মাছিও থাকে সেখানে। তিনি বলেন, আমরা কাউকে মধু খেতে দেবো না, বরং জনগণের অধিকার জনগণের কাছেই পৌঁছে দেবো। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের কোনো প্রাপ্যতা থাকলেও তা নেবেন না। আত্মীয়-স্বজনকেও দেবেন না। কারো খুবই প্রয়োজন থাকলে আমরা নিজেরা তা সমাধান করব। তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে উন্নয়নের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টির আহ্বান জানান।
এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা এমন এক ডিএনসিসি প্রতিষ্ঠা করতে চাই সেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং সব সমস্যার সমাধান করা হবে ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে। তিনি সে স্বপ্নের নগরী প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা: ফখরুদ্দিন মানিকের সভাপতিত্বে এবং সহকারী জোন পরিচালক শহীদুল্লাহর পরিচালনায় শিক্ষাশিবিরে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রব, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. আব্দুস সামাদ। আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন ও উপাধ্যক্ষ আনোয়ারুল করিম প্রমুখ।