কনকনে ঠাণ্ডায় স্থবির জনজীবন

Printed Edition
bangla-1
চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতের মধ্যেও জীবিকার টানে বের হয়েছেন শ্রমজীবীরা : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠাণ্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানের জনজীবন। হিমেল বাতাস শীতে তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। জীবিকার প্রয়োজনে তারা বের হলেও খুব সীমিত আয় নিয়ে ঘরে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এ দিকে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে খবর জানা গেছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে চুয়াডাঙ্গা। সাথে হিমেল বাতাস আর কনকনে ঠাণ্ডা মিলিয়ে শীতের তীব্রতায় নাকাল হয়ে পড়েছে জেলার মানুষ। শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্রই শীতের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে স্থবিরতা।

গতকাল শুক্রবার সকালে চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি শীত মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ডের সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ। একই সাথে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক, হকারসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। তীব্র শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার প্রয়োজনে তাদের বের হতে হচ্ছে ঘর থেকে। এ দিকে শীত বাড়ার সাথে সাথে জেলায় বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শহরের হোটেল ব্যবসায়ী আব্বাস আলী বলেন, ‘ভোরে কাজ শুরু করতে হয়। ঠাণ্ডা পানিতে হাত দিলেই অসহ্য লাগে। তবুও সংসারের তাগিদে কাজ বন্ধ রাখা যায় না।’ চা-দোকানি আকাশ হোসেন জানান, শীতের কারণে মানুষ কম বের হচ্ছে। তাই আগের মতো ভোরে দোকান খুলছি না। চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, ‘আজ সকালে ৯টায় জেলায় ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এটি চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।’

পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, রংপুরের পীরগাছা উপজেলাজুড়ে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশার পাশাপাশি বৃষ্টির মতো ঝরা শিশিরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তিস্তা ও ঘাঘট নদীর বেষ্টিত চরাঞ্চলগুলোতে শীতের প্রকোপ কয়েক গুণ বেশি। হিমেল বাতাস আর কনকনে ঠাণ্ডায় চরবাসী ঘরবন্দী হয়ে পড়ছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। গরিব ও অসহায়রা কম্বলের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, পিরোজপুরের কাউখালীতে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। হিমেল হাওয়ায় সর্বত্রই শীতে জবুথবু অবস্থা। গত দুই দিন ধরে কাউখালীতে শীতের তীব্রতায় জনজীবন বিপর্যপ্ত হয়ে পড়েছে। শীতের তীব্রতা বাড়ায় উপজেলার গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় করছে সাধারণ ক্রেতারা। নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষ কম মূল্যে শীতবস্ত্র কেনার জন্য ভিড় জমাচ্ছে ফুটপাথের দোকানগুলোতে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুরনো গরম কাপড়ের ব্যবসা বেশ জমজমাট। উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে দেখা গেছে, পুরনো কাপড় বিক্রির ধুম পড়েছে। বিশেষ করে এর ক্রেতা হচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষ। বিভিন্ন রিকশা বা ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষ দোকানে গরম কাপড় কেনার ভিড় জমাচ্ছে। পুরনো কাপড়ের মধ্যে রয়েছে সোয়েটার, জ্যাকেট, কম্বল, গরম টুপি, চাদর, ব্লেজার, বিভিন্ন ধরনের মাফলার, মোটা গেঞ্জিসহ বিভিন্ন ধরনের গরম পোশাক। এসব দোকানে দামও তুলনামূলক কম। বিভিন্ন ধরনের জ্যাকেট ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়। এ ছাড়া মোটা গেঞ্জি, সোয়েটার ও চাদর পাওয়া যায় ১০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। রিকশাচালক শুকুর আলী আক্ষেপ করে বলেন, শীতের তীব্রতা বেড়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কিংবা বেসরকারিভাবে কোনো কম্বল পাওয়া যায়নি। ফুটপাথের দোকান থেকে ১২০ টাকায় একটি কম্বল ক্রয় করেছি।

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা কয়েক দিনের উত্তরের হিমেল বাতাসের সাথে ঘন কুয়াশা জেঁকে বসায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভোররাত থেকে সকাল গড়ালেও কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি থাকছে যে গ্রামাঞ্চল ও সড়কপথ দীর্ঘ সময় অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থায় থাকছে। সূর্যের দেখা মিলছে না। ফলে দিনের বেলায়ও যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা নেমে এসেছে ৫০ মিটারের নিচে, যা সড়ক ও নৌপথে চলাচলে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় কলাপাড়া উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯১ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতিকে আরো তীব্র করে তুলেছে।

তীব্র শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল, দিনমজুর, জেলে ও খেটেখাওয়া মানুষ। অনেককে খোলা আকাশের নিচে কিংবা রাস্তার পাশে খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। শীতের কারণে কর্মস্থলে যেতে না পারায় তাদের আয়ের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ দিকে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।