যুবদল নেতা পরিচয়ে হাসপাতালে চাঁদা দাবিতে চড়াও

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ এবং স্থানীয় বিএনপি
  • ভাইরাল হওয়ায় ব্যবস্থা নিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা

বিনা পারিশ্রমিকে দুই হাজার কিডনি প্রতিস্থাপনকারী মানবিক চিকিৎসক অধ্যাপক ডা: কামরুল ইসলামের হাসপাতালে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর থেকে যুবদল শেরেবাংলা নগর থানার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে মঈন নামে এক ব্যক্তি পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে ডা: কামরুল স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কাছে অভিযোগ দেন; কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। অবশেষে থানায় জিডি করার পরও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। গত শুক্রবার দলবল নিয়ে হাসপাতালে হামলার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক ভাইরাল হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়। এমন মানবিক চিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি করায় সমালোচনার ঝড় ওঠে নেট দুনিয়ায়।

জানা গেছে, শুক্রবার ওই ঘটনার পর রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর শ্যামলীর ৩ নম্বর রোডে সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে যায় যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ একটি প্রতিনিধিদল। তারা অধ্যাপক কামরুল ইসলামের কাছে ঘটনা জানতে চান। এ সময় অধ্যাপক কামরুল বলেন, ‘আমার সাথে ডিরেক্টলি কখনো কথা বলেনি সে। টাকার জন্য স্টাফদেরকে ভয়ভীতি দেখাতেন। এরপর দাবি করেন, আমাদের হাসপাতালে তার লোকদেরকে কাজ দিতে হবে। ডা: কামরুল বলেন, আমাদের হাসপাতালে চার শ’ স্টাফ কাজ করে, যাদের বেশির ভাগই দরিদ্র। কিন্তু মঈন বলে যে, সে যুবদল নেতা এবং কমিশনার পদে দাঁড়াবে। তার টাকার দরকার। আবার লোকদের চাকুরিরও প্রয়োজন। ডা: কামরুল বলেন, বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতাদেরকে জানিয়েছি; কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। পরে জিডি করেছি; কিন্তু তার এত বিরাট প্রভাব যে কেউ কিছু করেনি।

এরপর হঠাৎ এসে জানায়, হাসপাতালের একজন স্টাফ তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছে। এটা তাকে দিতে হবে। স্টাফ কোথা থেকে দেবে? সুতরাং হাসাপাতাল থেকে দিতে হবে। এভাবে হয়রানি করতে থাকে। প্রথমে মঈন ভয় দেখাত। দেখতে অনেক লম্বা-চওড়া, সাথে অনেক লোক নিয়ে আসে। আবার নিজেদেরকে যুবদল কর্মী বলে দাবি করে। কিছু বলাও যায় না।’

এ সময় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি ও আসলে আমাদের সংগঠনের কেউ না। এরা আমাদের সংগঠনের নাম ভাঙ্গায়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, এসব বিষয়ে জিরো টলারেন্স। এসব ঘটনা ঘটলে আমরা কাউকে ছাড় দিই না।

তিনি আরো বলেন, আগের আমলে যে রকম এ ধরনের ঘটনাগুলোকে অস্বীকার করা হয়েছে, আমরা কিন্তু সেটিও করি না। আমরা আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে সাজা দিয়েছি, প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি, কাউকে কাউকে পুলিশে ধরিয়েও দিয়েছি। পরে র‌্যাবের একজন কর্মকর্তাকে ফোন করে মঈন নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতারের অনুরোধ করেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।

যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, যুবদলের কেউ এখানে চাঁদাবাজির মতো কাজ করতে আসেনি, আসবে না। এটার দায়িত্ব আমরা নিলাম। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। তারা এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন। জানা যায়, শুধু শুক্রবারই নয়, ৫ আগস্টের পর থেকেই নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে হাসপাতাল থেকে চাঁদা দাবি করে আসছেন স্থানীয় ওই কথিত নেতা। চাপে ফেলতে ডা: কামরুলকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে হাসপাতালের সামনে মব তৈরিরও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, চাঁদাবাজির ঘটনায় শুরু থেকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে জানালেও নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা, মেলেনি প্রতিকার।

দুই হাজারের বেশি মানুষকে বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি প্রতিস্থাপনকারী চিকিৎসক ডা: কামরুল ইসলাম দেশে-বিদেশে সমাদৃত। মানব সেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে শেরেবাংলা নগর থানার ওসির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে হলে তিনি বারবারই ফোন কেটে দেন। জানতে চাইলে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।