ইসিতে জামায়াতের নারী নেত্রীরা
ভোটের প্রচারে গিয়ে জামায়াতের নারী সদস্যরা আক্রমণের শিকার হচ্ছেন
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রথমবারের মতো নির্বাচন কমিশনের সাথে (ইসি) বৈঠক করলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী নেত্রীরা। গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ১৫টি জায়গায় নারীদের ওপরে হামলার ডকুমেন্টস এবং ভিডিও ইসিতে জমা দেন জামায়াতের নারী শাখার নেতারা। সিইসির সাথে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন তারা। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান, নারী শাখার সদস্য মারজিয়া বেগম ও ডা: হাবিবা চৌধুরী সুইট বৈঠকে অংশ নেন।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ওলিউল্লাহ নোমান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে জামায়াতের নারী নেত্রীরা বলেন, ভোটের প্রচারে গিয়ে দলটির নারী সদস্যরা আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। নারী কর্মীরা যখন ভোটের প্রচারণায় যাচ্ছেন তখন একদল লোক হুমকি ধামকি দিচ্ছে। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন নারীরা। এ ধরনের কার্যক্রম এবং দলের শীর্ষ নেতার আইডি হ্যাক করে কুরুচিপূর্ণ ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হচ্ছে।
জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, এই প্রথম জামায়াতের মহিলা উইং থেকে আমরা নির্বাচন কমিশনে এসেছি। সারা বাংলাদেশে আমাদের মা-বোনদের ওপর যে হামলা হয়েছে সে বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। আমরা ঘরে বসে থাকতে পারিনি। আমরা স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। বাংলাদেশে ফিফটি পার্সেন্ট নারী। আমরা সুষ্ঠু একটা পরিবেশে ভোট দিতে চাই। এই বোনদের প্রতিহত করতে গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাদের ৫০ পার্সেন্ট আমরা রিপ্রেজেন্ট করছি। এই অর্গানাইজেশনে আমাদের অধিকার দিচ্ছে, আমাদের সম্মান দিচ্ছে। আমাদের মেয়েদের মধ্যে কাজ হচ্ছে। আমরা লিডারশিপ দিচ্ছি। আমরা ট্রেনিং নিচ্ছি। কিছু মহল এই অ্যাক্টিভিটি পছন্দ করছে না। তাই প্রতিহিংসার কারণে আমাদের ওপর হামলা করছে। আমরা কোনো খারাপ কাজ করছি না। একটা সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ করে দেয়ার জন্য ইসির কাছে দাবি জানিয়েছি।
জামায়াতের নারী নেত্রীরা বলেন, ফোর্স করে আমাদের নারীদের রুখতে পারবে না। যেখানে বাধা আসবে সেখানেই প্রতিবাদ করবো। আমাদের সাহস আছে, আমাদের ঈমান আছে। আমরা কোনো বাধা মানবো না।
যারা এ কাজে জড়িত তাদের খোঁজ নিয়ে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান জামায়াতের এই নারী নেত্রীরা। তারা বলেন, আমরা সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। এটি জাতিরও প্রত্যাশা। দুটো নির্বাচন এক সাথে হচ্ছে। এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটা ইতিবাচক নির্বাচন আমাদের প্রত্যাশা। এ ব্যাপারে সরকার দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
এক প্রশ্নের জবাবে নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেছেন, নারীরা জামায়াতের আমির হতে পারবে না। আমরা একটা ইসলামী দল। আসলে পুরুষই নারীর পরিচালক, এটা মেনে নিয়ে আমরা রাজনীতিতে এসেছি।
জামায়াতের এই নারী নেত্রী বলেন, নারী শীর্ষ পদে থাকলেই একটা কিছু হবে এটা ঠিক নয়। জামায়াত নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী।
হাবিবা চৌধুরী সুইট বলেন, আমরা লোকাল ইলেকশনে নারী প্রার্থী দিচ্ছি এটা কিন্তু প্রমাণিত। পরবর্তীতে নারীরাও জামায়াতের ভালো পদে আসবে। পরবর্তী সময়ে নারীরা সংসদ ভোটে সরাসরি লড়াই করবে।