ভোটগ্রহণ ৯ এপ্রিল

বগুড়া-৬ উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ নির্বাচনে গণভোট থাকছে না

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনে গণভোট থাকছে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এ দু’টি নির্বাচনে গণভোটের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। গতকাল বুধবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। এতে ইসি সচিবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আখতার আহমেদ জানান, বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। তিনি বলেন, বগুড়া-৬ আসনে আগের নির্বাচনে গণভোট হয়েছিল। তবে শেরপুর-৩ আসনে গণভোটের ভোটসংখ্যা নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না বলে সেখানে গণভোটের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আট দিনের জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী তদন্ত কমিটি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে কাজ শুরু করেছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর বা উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইসি সচিব আরো জানান, নির্বাচনে ওসিবি ও আইসিবি- দুই ধরনের পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রবাসী ভোটারদের জন্য ওসিবি ব্যালট আগামীকাল থেকে পাঠানো শুরু হবে। দেশের ভেতরে পোস্টাল ভোট গ্রহণ শুরু হতে পারে ২৩ বা ২৪ মার্চ থেকে।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে বডিওর্ন ক্যামেরা ও সুরক্ষা অ্যাপের ব্যবহার বাড়ানো হবে। আগে একটি কেন্দ্রে একটি বডিওর্ন ক্যামেরা থাকলেও এবার প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক ক্যামেরা ব্যবহার করা হতে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে।

আখতার আহমেদ জানান, কেন্দ্রভিত্তিক ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে, যাতে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে তা পর্যালোচনা করা যায়। ফলাফল ব্যবস্থাপনাও আগের মতোই থাকবে। যেহেতু দু’টি আসনে কেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলক কম- একটিতে ১৫০টি এবং অন্যটিতে ২৮টি কেন্দ্র- তাই দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কমিশন। পোস্টাল ভোট গণনা শেষ হলেই ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচনকে ঘিরে কোনো চাপ বা উদ্বেগের আশঙ্কা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, এখন পর্যন্ত কমিশনের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই এবং কেউ এ ধরনের অভিযোগও করেননি। সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করবেন- এটাই কমিশনের প্রত্যাশা।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, শেরপুর-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবুল তালেব মো: সাইফুদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো: মাসুদুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: আমিনুল ইসলাম, বিএনপির মো: মাহমুদুল হক রুবেল এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে মো: মিজানুর রহমান মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র বাছাই সম্পন্ন করেছেন এবং কেউ আপিল করেননি।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এই আসনের একজন বৈধ প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। পরে নতুন তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।

অন্য দিকে বগুড়া-৬ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো: আবিদুর রহমান, বিএনপির মো: রেজাউল করিম বাদশা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো: আল আলিম তালুকদার মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এই আসনেও রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন এবং কেউ আপিল করেননি।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচিত হন। তবে একই সাথে দু’টি আসনের সদস্য থাকা সম্ভব না হওয়ায় তিনি ঢাকা-১৭ আসনটি রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। পরে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নতুন তফসিল দেয় নির্বাচন কমিশন।

এ দিকে শেরপুর-৩ সাধারণ নির্বাচন ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিও গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে বগুড়া-৬ আসনের জন্য বগুড়া জেলার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো: আহসান হাবিব এবং শেরপুর-৩ আসনের জন্য শেরপুর জেলার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো: মোরশেদুল আলমকে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।