পাবনা-৩ ও ৪ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীতে অস্বস্তি, আসন হারানোর শঙ্কা
Printed Edition
এস এম আলাউদ্দিন পাবনা
বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়েই পাবনা-৩ ও ৪ আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীরা দাপটের সাথে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে দুই আসনেই দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিভক্ত ভোটের কারণে আসন হারানোর শঙ্কাও প্রকাশ্যে আসছে। বিশেষ করে পাবনা-৪ আসন নিয়ে উদ্বেগ বেশি।
ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৪ আসনে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতসহ মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির দলীয় প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। তবে এ আসনে বিএনপির দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে থাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। তারা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।
মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় জাকারিয়া পিন্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন স্থানীয় নেতা বিএনপি থেকে পদত্যাগও করেছেন বলে জানা গেছে। জাকারিয়া পিন্টু শেখ হাসিনার ট্রেন বহরে হামলার মামলার আসামি ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি মুক্তি পান।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, বিএনপির একমাত্র মনোনীত প্রার্থী আমি। কেউ যদি স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করেন, সে বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত রয়েছে। অন্য দিকে বহিষ্কৃত জাকারিয়া পিন্টু বলেন, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। জনগণের চাপে আমি প্রার্থী হয়েছি এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণেই মাঠে আছি। জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, বিএনপির বিভাজনকে পুঁজি করে নয়, জনগণের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়েই জামায়াত বিজয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
একই চিত্র দেখা যাচ্ছে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৩ আসনেও। এখানে বিএনপির দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। তবে তাকে চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সাবেক এমপি কে এম আনোয়ারুর ইসলাম। মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবু বহিষ্কারাদেশ উপেক্ষা করে তিনি ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।
পাবনা-৩ আসনেও বিএনপির বিভাজনের সুযোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আলী আসগারের অবস্থান শক্ত হতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। দুই আসনেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি বিএনপিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।