গণভোট নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি শরীয়তপুরে
চরাঞ্চলসহ প্রান্তিক ভোটারদের স্পষ্ট ধারণার অভাব
Printed Edition
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র ৯ দিন বাকি। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা জোরদার হচ্ছে। তবে নানা আয়োজন ও প্রচেষ্টার পরও শরীয়তপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের প্রায় ১২ লাখ ভোটারের বড় একটি অংশের কাছে গণভোটের উদ্দেশ্য ও প্রভাব এখনো পরিষ্কার নয়। বিশেষ করে পদ্মা ও মেঘনা নদীবেষ্টিত বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল এবং প্রত্যন্ত এলাকার ভোটারদের মধ্যে গণভোট নিয়ে স্পষ্ট ধারণার অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে।
জেলার তিনটি আসনের অধিকাংশ এলাকাতেই সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা চোখে পড়লেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিলে রাষ্ট্রীয়ভাবে কী প্রভাব পড়বে- তা অনেক ভোটারই বুঝে উঠতে পারছেন না। ফলে গণভোটের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া ও তাৎপর্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা। সচেতন মহলের মতে, এই পরিস্থিতিতে গণভোট সফল করতে হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি আরো জোরালোভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরা জরুরি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা এলাকার এক কৃষক ভোটার মাফুজ হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচার চালালেও গণভোট বিষয়ে কিছু বোঝানো হয় না। হ্যাঁ বা না ভোট দিলে রাষ্ট্রের কী উপকার বা ক্ষতি হবে- এটা আমরা অনেকেই পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছি না।’
গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাহমুদ খান বলেন, ‘আমরা প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ। ভোট দেব ঠিকই, কিন্তু গণভোটে হ্যাঁ দিলে কি লাভ বা না দিলে কী ক্ষতি’ এই হিসাবটা এখনো পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছি না।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা: জোবায়ের খান বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের মতামত নেয়ার এই প্রক্রিয়া তখনই সফল হবে, যখন প্রতিটি ভোটার বিষয়টি বুঝে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।
শরীয়তপুর জেলা নির্বাচন অফিসার মো: মিজানুর রহমান জানান, গণভোট সম্পর্কে প্রান্তিক মানুষের ধারণা বাড়াতে স্থানীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, চৌকিদার ও দফাদারদের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন ১০টি গাড়িতে মাইকিং করা হচ্ছে। এসব প্রচারণায় আমরা গণভোটের গুরুত্ব ও বিষয়গুলো তুলে ধরছি।