মহানগরে নির্বাচনী গণসংযোগ

নাসীরুদ্দীনের ৮ দফা ইশতেহার

বিচার, নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবার প্রতিশ্রুতি

Printed Edition
3rd-5
নাসীরুদ্দীনের ৮ দফা ইশতেহার

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-৮ আসনে ভোটারদের সামনে ৮ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। গতকাল শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এই ইশতেহার তুলে ধরেন।

ইশতেহারে বিচারহীনতা, চাঁদাবাজি-মাদক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসঙ্কট, বেকারত্ব, নাগরিক দুর্ভোগ এবং পরিবেশ দূষণকে ঢাকা-৮ আসনের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার কথা জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার অগ্রাধিকার : ইশতেহারের প্রথম দফায় তিনি শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে জাতীয় সংসদে এই হত্যার বিচার দাবিতে জোরালো ভূমিকা রাখা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে নিজের প্রধান রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন নাসীরুদ্দীন।

চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত ঢাকা-৮ : দ্বিতীয় দফায় তিনি চাঁদাবাজি, মাদক, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলেন। গোপনীয়ভাবে অভিযোগ জানানোর জন্য পযধহফধনধধল.পড়স চালুর ঘোষণা দিয়ে জানান, প্রতিটি অভিযোগ তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন, সিসিটিভি নজরদারি, পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সর্বজনীন ও নাগরিকবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা : ইশতেহারের তৃতীয় দফায় সরকারি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে দালাল ও সিন্ডিকেটমুক্ত করার ঘোষণা দেয়া হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ সব সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য, মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ সেবার কথা বলেন তিনি। প্রাণীর জন্য ভ্যাকসিনেশন ও জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য দূরীকরণ : চতুর্থ দফায় বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ভর্তিবাণিজ্য, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ক্যাম্পাস সহিংসতা বন্ধের পাশাপাশি আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, এআই ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালুর কথা বলেন তিনি। একই সাথে মাঠ উদ্ধার ও পার্ক সংরক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন।

কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন : পঞ্চম দফায় বেকারত্ব দূরীকরণে স্টার্টআপ ফান্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা সহায়তা এবং পল্টনে একটি আধুনিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল স্কিলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন।

নাগরিক দুর্ভোগ কমানোর অঙ্গীকার : ষষ্ঠ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সঙ্কট, যানজট ও ভিআইপি প্রটোকলজনিত ভোগান্তি কমানোর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, এনআইডি-সহ নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং হকার পুনর্বাসনের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য ঢাকা-৮ : সপ্তম দফায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জলাবদ্ধতা নিরসন ও বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালুর কথাও জানান।

‘জনতার এমপি, জনতার সেবক’ : ইশতেহারের শেষ দফায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজেকে ‘জনতার এমপি ও জনতার সেবক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ক্ষমতাকে এলিট গোষ্ঠীর হাত থেকে সাধারণ মানুষের কাতারে ফিরিয়ে আনাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে হটলাইন ও ওয়ার্ডভিত্তিক ওয়ান-স্টপ সেবা কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।