ঈদযাত্রায় আহছানিয়া মিশনের ৯ সুপারিশ
ক্লান্ত শরীরে দ্রুতগতিতে যানবাহন চালানো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঈদ যাত্রায় ক্লান্ত শরীর নিয়ে দ্রুতগতিতে যানবাহন চালনার কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ সময় চালকদের অতিরিক্ত ট্রিপ থাকায় তারা বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ পান না। অথচ পরবর্তী ট্রিপের জন্য তাগাদা থাকায় যানবাহন দ্রুতগতিতে চালিয়ে থাকে। এমনটি মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে যানবাহনের গতি কমিয়ে চালকদের বিশ্রামের ব্যবস্থাসহ ৯ দফা সুপারিশ করেছে নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ইয়ুথ ফোরাম। গতকাল মঙ্গলবার আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা এক অনুষ্ঠানে সুপারিশ তুলে ধরেন।
আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম জানায়, প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের মহাসড়কগুলোতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, যা বহু প্রাণ কেড়ে নেয়। ঈদযাত্রায় সড়কে বেপরোয়া হয়ে ওঠে যানবাহন। বাসের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে সড়কে ছুটে চলে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন। অসতর্কভাবে চলে পথচারী। ঈদে প্রতিবারই রোডক্র্যাশের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
গত ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআরটিএর তথ্যমতে গত ঈদুল ফিতরের আট দিনের ছুটিতে সারা দেশে ১১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩২ জন নিহত এবং ২০৮ জন আহত হয়। ২০২৩ সালের ঈদুল ফিতরে রোডক্র্যাশে ১৫ দিনে ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি নিহত হয় বলে বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়। রোডক্র্যাশ বৃদ্ধি পাওয়ার বিভিন্ন কারণের মধ্যে অন্যতম কারণ সড়ক নিরাপত্তাসংক্রান্ত দেশে কোনো আইন ও এর প্রয়োগ নেই। এমনকি উপযুক্ত সিস্টেম বা কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না।
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ইয়ুথ ফোরামের সুপারিশগুলোতে বলা হয়েছে, বেশির ভাগ রোডক্র্যাশ সংঘটিত হয় গতির কারণে। তাই সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে এই সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন অতিসত্বর প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ঈদে মোটরযানের গতিসীমা নির্দেশিকা মেনে চলতে সবাইকে বাধ্য করতে হবে। ঈদে চলাচলে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়েরই মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করে অতিদ্রুত এ সংক্রান্ত এনফোর্সমেন্ট গাইডলাইন প্রণয়ন করতে হবে। সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে।
এতে বলা হয়, অবশ্যই চালকদের কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে ঈদযাত্রায় চালকরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায়। কারণ ক্লান্ত চালক যেমন নিজের জীবনের ঝুঁকি বাড়ায়, তেমনি যাত্রীদের জন্যও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ঈদযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে নছিমন, করিমন, টেম্পোসহ সব প্রকার ব্যাটারি চলিত যানবাহন ও ভটভটি চলাচল বন্ধ করতে হবে। মাদক বা নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করে যাতে গাড়ি না চালায় সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে এবং এ সংক্রান্ত বিধিবিধান বাস্তবায়ন করতে হবে।
পরিবহনের পাশাপাশি পথচারী পারাপার ও তাদের নিরাপদে চলাচলে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যেমন-ফুটপাথ হকারমুক্ত করতে হবে। ফুটওভারব্রিজ পথচারীবান্ধব করতে হবে। এবং ফুটপাথ ও ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে পথচারীদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ ছাড়াও পারাপারের সময় মুঠোফোন ব্যবহার না করা, জেব্রাক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে পথচারীদের সচেতন করতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দায়বদ্ধতার আওতায় আনতে হবে। বিশ্বব্যাপী সমাদৃত সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচের আদলে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই সড়কে মৃত্যুর মিছিল হ্রাস পাবে এবং সব সড়ক ব্যবহারকারী ঈদের মত বিভিন্ন উৎসব নিরাপদে পরিবারের সাথে উদযাপন করতে পারবে।